ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত সাত গ্রামের একমাত্র মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাতগ্রাম অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ খান উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৯৫ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ৩১ বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। তবে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। খানাখন্দ ও বড়বড় গর্তে ভরা সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিদ্যালয়ে যাওয়ার পুরো সড়কজুড়েই রয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ ও গর্ত। বৃষ্টি হলে সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে কাদা-পানি মাড়িয়েই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অনেক সময় গর্তে পড়ে পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। পোশাক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ বিদ্যালয়ে আসতেও সমস্যায় পড়ে। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও শিক্ষা কার্যক্রম।
শিক্ষার্থীরা জানান, বৃষ্টি হলে নালার পানি ও কাদা পেরিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। সড়কের গর্তে পানি জমে থাকায় কোথায় পা ফেলতে হবে, সেটিও বোঝা যায় না। ফলে পা পিছলে পড়ে গিয়ে পোশাক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক সময় পোশাক নষ্ট হয়ে গেলে বিদ্যালয়ে যাওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান বলেন, সাতটি গ্রামের মানুষের উদ্যোগে এমন একটি প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যখন আশপাশে কোনো মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। বর্তমানে এই সাত গ্রামের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক শিক্ষার প্রধান ভরসা বিদ্যালয়টি। কিন্তু বিদ্যালয়ে আসার রাস্তাটির বেহাল অবস্থা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের কাদা-পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। অনেক সময় গর্তে পড়ে তাদের পোশাক নষ্ট হয়। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষক, অভিভাবক, সাধারণ পথচারী ও অটোরিকশা চালকরাও প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর পাশাপাশি নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত ব্যবস্থাও জরুরি। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথই যদি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তা তাদের শিক্ষা অর্জনেও প্রভাব ফেলবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালকেরাও সড়কটির বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, প্রতিদিনই এই সড়ক দিয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। খানাখন্দে পড়ে যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে।
স্থানীয়দের দাবি, সাত গ্রামের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করতে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে বলে আশা করছেন তারা।
সময়ের আলো/জোই