ভারতের নির্বাচন কমিশন ও ভোটার তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে দিল্লির যন্তর মন্তরে আগামী ১০ অক্টোবর প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলটির দাবি, কর্মসূচির বিষয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
দলের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তরুণরা এই সমাবেশে অংশ নেবেন। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম, ভোটার তালিকা এবং সামগ্রিক নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সৌরভ দাস বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করলেও তাদের আন্দোলন বন্ধ হবে না। তার মতে, কেবল একজন কর্মকর্তার পদত্যাগকে সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং নির্বাচন কমিশনের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।
সৌরভ দাসের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য চলমান বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে দলটি। এই প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের তদন্তও চেয়েছে তারা।
ককরোচ জনতা পার্টির এই নেতা আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্যতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব গ্রহণ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তার ভাষ্য, একজন ব্যক্তির পদত্যাগে নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঘিরে তৈরি হওয়া সংকটের সমাধান হবে না; এর জন্য প্রয়োজন পুরো ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার।
১০ অক্টোবরের সমাবেশকে তরুণদের উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত করে সৌরভ দাস বলেন, ভোট চুরি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের মতো অভিযোগ ঘিরে নতুন প্রজন্মের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। নতুন ভোটারদের তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নতুন ভোটারদের তালিকাভুক্তির সময় নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সৌরভ। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
দলটির পক্ষ থেকে ১০ অক্টোবরের সমাবেশে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সৌরভ দাসের ভাষ্য, নির্বাচন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে কর্মসূচি আরও দীর্ঘায়িত করা হবে।
এদিকে কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, যন্তর মন্তরে সমাবেশ আয়োজনের বিষয়টি তারা আগেই পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানাকে লিখিতভাবে জানিয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ