সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি সাধারণ), এডিপি রাজস্ব, এবং উপজেলা পরিষদ রাজস্ব তহবিলের আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে অর্থ প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। জানা গেছে, সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) না মেনে ৮০ টি বেয়ারার চেকের মাধ্যমে ব্যাংকের দুটি হিসাব নাম্বার থেকে ৯৬ লাখ টাকা নগদ উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে।
কাজিপুর উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ উন্নয়নে সরকারি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি সাধারণ, ও এডিপি রাজস্ব, এবং উপজেলা পরিষদ রাজস্ব তহবিল রয়েছে। গত ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি সাধারণ), খাতের আওতায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মোট ১ কোটি ৬০ লক্ষ ২ হাজার ১ শত টাকা বরাদ্দ পায়।
এই অর্থবছরে এডিপি রাজস্ব খাতে মোট ১ কোটি ১২ লক্ষ ৫৭ হাজার ১ শত ৫২ টাকা বরাদ্দ আসে। প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে ঐ অর্থবছরে সকল প্রকল্প অনুযায়ী স্থানীয় সোনালী ব্যাংকের কাজিপুর শাখার দুটি অ্যাকাউন্টের চেকের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হয় বলেও জানা গেছে।
সোনালী ব্যাংকের লেনদেন বিবরণ থেকে জানা যায়, এডিপি সাধারণ এবং এডিপি রাজস্ব খাতের জন্য নির্ধারিত দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে ১৩/০৮/২০২৫ থেকে ৩০/০৮/২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখে মোট ৮০ টি বেয়ারার চেকের মাধ্যমে ৯৫ লক্ষ ৮৬ হাজার ৮৭ টাকা নগদ উত্তোলন করা হয়।
এর মধ্যে, জুন মাসের ২৪ তারিখে ৮ টি বেয়ারার ক্যাশ চেকের মাধ্যমে ৬ লক্ষ ৮২ হাজার ৩ শত ৯১ টাকা, এবং ১৮/০৬/২০২৬ ইং তারিখে ১১ টি বেয়ারার ক্যাশ চেকের মাধ্যমে ১৮ লক্ষ ৫০ হাজার ৩ শত ২০ টাকা উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়াও ২৮ জুন ২ টি বেয়ারার ক্যাশ চেকের মাধ্যমে ২০ লক্ষ ৬৮ হাজার ৫ শত ৩৪ টাকা উত্তোলন করে। ১টি বেয়ারার চেকে নগদ ১১ লক্ষের বেশি টাকা উত্তোলন করার রেকর্ড রয়েছে। যা সরকারি ক্রয় নীতি (পিপিআর) বহির্ভূত। এ ক্ষেত্রে এডিপির যেকোনো প্রকল্পের অর্থ প্রদানে অ্যাকাউন্ট পে চেকে ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সিএ মাসুদ রানা জানান, তৎকালীন ইউএনও যেভাবে বলেছেন সেভাবে চেক ইস্যু করা হয়েছে।
তৎকালীন ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান বর্তমানে প্রোমোশনে অন্য জেলায় দায়িত্বরত রয়েছেন। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিভিন্ন বিশেষ প্রয়োজনে বেয়ারার চেক ব্যবহার করা হয়েছে, বিস্তারিত জানতে কাজিপুর উপজেলা পরিষদের সহযোগিতা নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
কাজিপুর উপজেলার বর্তমান নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক শাহানাজ পারভীন বলেন, বিষয়টি আমি যোগদানের পূর্বের। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে তদন্তের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।
সময়ের আলো/আতা