ফ্রান্সে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রভাব এবার পড়েছে প্রতিবেশী বেলজিয়ামেও। উচ্চশিক্ষার বাড়তি ব্যয়, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর অতিরিক্ত চাপ এবং শিক্ষা উপকরণের সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার প্রতিবাদে দেশটির ফরাসিভাষী অঞ্চলের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে নেমেছেন শত শত শিক্ষার্থী।
লিয়েজসহ বেশ কয়েকটি শহরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে লিয়েজে অক্টোবরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১০৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় সংবাদ সংস্থা বেলগার তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৮০ জনকে প্রশাসনিক এবং ২৭ জনকে বিচারিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিক্ষোভের কয়েকটি স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়। লিয়েজের পাশাপাশি ব্রাসেলস ও মন্স শহরেও শিক্ষার্থীরা মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।
এদিকে ব্রাসেলসের সেন্ট-জিলস এলাকায় এক শিক্ষক স্কুলের মধ্যাহ্নভোজের জন্য বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে তিন দিনের অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ফ্রান্সের বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই তারা নিজেদের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন। তাদের দাবি, দুই দেশের শিক্ষার্থীরাই প্রায় একই ধরনের সংকটের মুখোমুখি। ফ্রান্সের চলমান আন্দোলন বেলজিয়ামের শিক্ষার্থীদেরও প্রতিবাদে আরও উৎসাহিত করেছে।
বিক্ষোভে বিভিন্ন দাবি ও ক্ষোভ তুলে ধরে প্ল্যাকার্ড বহন করেন শিক্ষার্থীরা। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘সবকিছু এলোমেলো। আমরা একটি অধিকারের জন্য লড়ছি, কোনো বিশেষ সুবিধার জন্য নয়।’ আরেকটিতে লেখা ছিল, ‘আমি শিক্ষা বেছে নিয়েছি, হাঙ্গার গেমস নয়।’
এর আগে গত জুনেও শিক্ষা সংস্কার এবং টিউশন ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ব্রাসেলসে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল। সে সময় দেশটির ফরাসিভাষী সম্প্রদায়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর টিউশন ফি ৮৩৫ ইউরো থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ১৯৪ ইউরো করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।
নতুন করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ নিয়ে লিয়েজের মেয়র উইলি ডেমেয়ারের আশা, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে। বেলজিয়ামের সম্প্রচারমাধ্যম আরটিবিএফকে তিনি বলেন, তরুণরা যেন শান্তিপূর্ণভাবে তাদের অভিযোগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের উদ্বেগ গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়— এটাই প্রত্যাশা।
তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত থাকায় তাদের ক্ষোভ প্রশমনে প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ