ফিরে আসুক নিজেদের চিরচেনা খেলার মাঠ

শায়রুল কবির খান

মতামত

সরকারের পরিকল্পিত সিদ্ধান্তে অসাধারণ ফলাফল আসছে। ‘খেলা হবে পেশা, পরিবার হবে স্বাবলম্বী’—এই স্লোগান সরকারপ্রধান ও বিএনপি চেয়ারম্যান ক্রীড়াবিদদের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন

2026-10-08T12:05:31+00:00
2026-10-08T12:05:31+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬,
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
মতামত
ফিরে আসুক নিজেদের চিরচেনা খেলার মাঠ
শায়রুল কবির খান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
সরকারের পরিকল্পিত সিদ্ধান্তে অসাধারণ ফলাফল আসছে। ‘খেলা হবে পেশা, পরিবার হবে স্বাবলম্বী’—এই স্লোগান সরকারপ্রধান ও বিএনপি চেয়ারম্যান ক্রীড়াবিদদের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে বক্তব্যে বলেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গত ৩ অক্টোবর দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ পরিদর্শন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে তার দৃশ্যমান অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন ও বাস্তবায়ন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ক্রীড়াবিদদের পুরস্কার, ক্রীড়াবিদদের ভাতা, ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এর মধ্যে অন্যতম ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজন। চূড়ান্ত অনুষ্ঠান জাতীয়ভাবে ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার বিতরণ করেন।

সারা দেশের এই অঞ্চলের বিশেষ করে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের পরের বাস্তব চিত্র বলা যায়, নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে খেলাধুলার মাঠ ছিল।

স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন নামে পরিচিত অধিকাংশ মাঠই বর্ষাকালে পানির নিচে থাকত। এরপর শুকনো মৌসুমে সেগুলো ব্যবহার হতো। সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হতো শীতকালে। নানা প্রতিযোগিতা, গানের আসর, গরু-ষাঁড়ের লড়াই, ওয়াজ মাহফিলসহ বিভিন্ন আয়োজন অনুষ্ঠিত হতো এসব মাঠে।

এই মাঠগুলো সরকারি খাস জমি এবং কোনো কোনো এলাকায় প্রভাবশালী পরিবারের দেওয়া জায়গায় ছিল।

পর্যায়ক্রমে খাস জমি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দখল হয়েছে। অন্যদিকে, প্রভাবশালী পরিবারের জমি ওয়ারিশদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারার সূত্র ধরে শেষ হয়ে গেছে।

নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার ২ নম্বর স্বল-শুনই ইউনিয়নে খাঁ বাড়ি (আমাদের বাড়ি) বংশের একটি খেলার মাঠ ছিল। এর নাম ছিল ‘ছটঠান’। আমার মনে আছে, দাদা ১৯৮৫ সালে ইন্তেকাল করার পর নব্বইয়ের দশকে বংশের ওয়ারিশরা আস্তে আস্তে ভাগ করতে করতে এখন সেখানে বাড়িঘর তৈরি হয়েছে। এভাবেই বিলীন হয়ে গেছে আমাদের গর্বের ‘ছটঠান’।

বর্তমান সরকারের আন্তরিক উদ্যোগের মাধ্যমে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ভূমি অফিস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি করে আবার সেগুলো উদ্ধার করে খেলার উপযোগী করে তোলা যেতে পারে।

তাহলে একদিকে নতুন জায়গা নষ্ট হবে না, অন্যদিকে পুরনো ঐতিহ্য ফিরে আসবে।

‘খেলা হবে পেশা, পরিবার হবে স্বাবলম্বী’—সরকারের এই স্লোগান তখন যথাযথভাবে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর ‘৩১ দফা’ ভিত্তিক যে প্রতিশ্রুতি, তা বাস্তবায়নও সহজ ও ইতিবাচক হবে।

লেখক : সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী

সময়ের আলো/জেডআই
  বিষয়:   খেলার মাঠ 


Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: