চোখ আমাদের শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি। তাই চোখ সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসে সতর্ক থাকা জরুরি।
আলো ব্যবহারে সতর্কতা
খুব কম বা অতিরিক্ত তীব্র আলোয় দীর্ঘসময় পড়াশোনা বা কাজ করা উচিত নয়। দিনের বেলায় সরাসরি সূর্যের আলো চোখে পড়া এড়িয়ে চলতে হবে। রাতে পড়ার সময় পর্যাপ্ত ও আরামদায়ক আলো ব্যবহার করতে হবে। টেবিল ল্যাম্প এমনভাবে রাখা উচিত, যাতে আলো সরাসরি চোখে না পড়ে।
ইলেকট্রনিক পর্দার ব্যবহার
অন্ধকার ঘরে টিভি বা মুঠোফোন দেখা উচিত নয়। পর্দার অতিরিক্ত উজ্জ্বলতা, রং ও কনট্রাস্ট চোখে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। মুঠোফোন চোখের খুব কাছে না রেখে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। একটানা দীর্ঘসময় পর্দার দিকে না তাকিয়ে মাঝেমধ্যে বিরতি দিতে হবে।
প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্কতা
অতিরিক্ত বা অনুপযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহারে চোখে অ্যালার্জি, চোখের পাতায় প্রদাহসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। চোখের আশপাশে ব্যবহৃত প্রসাধনী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সমস্যা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মাথায় খুশকি থাকলেও চোখের পাতায় প্রদাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ধুলো-ময়লা ও রোদ থেকে সুরক্ষা
ধুলোবালি ও দূষিত পরিবেশে চোখের অস্বস্তি বাড়তে পারে। বাইরে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী রোদচশমা ব্যবহার করা যেতে পারে। চোখে ধুলো বা ময়লা ঢুকলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। তবে, চোখ অতিরিক্ত ঘষা উচিত নয়।
রোগের সময় চোখের যত্ন
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে চোখের স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি হতে পারে। তাই এসব রোগে নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া ও চোখ পরীক্ষা করা জরুরি। শিশুদের বিভিন্ন সংক্রামক রোগের সময়ও চোখের কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
চশমা ব্যবহারে ভুল নয়
চশমার প্রয়োজন হলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চোখ পরীক্ষা করে চশমা ব্যবহার করা উচিত। বয়স বাড়ার সঙ্গে কাছের জিনিস দেখতে সমস্যা হলে নিজের ইচ্ছায় রেডিমেড চশমা না কিনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া, চশমার লেন্স পরিষ্কার ও অক্ষত রেখে ব্যবহার করতে হবে।
চোখে কিছু পড়লে কী করবেন
চোখে ধুলা, কীটপতঙ্গ বা অন্য কোনো বস্তু ঢুকলে চোখ কচলানো যাবে না। এতে কর্নিয়ায় আঘাত লাগতে পারে। পরিষ্কার পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে নেওয়া যেতে পারে। বস্তুটি সহজে বের না হলে বা চোখে ব্যথা, লালভাব, ঝাপসা দেখা কিংবা অতিরিক্ত পানি পড়া শুরু হলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র : ওয়েবএমডি
সময়ের আলো/মহু