সকালের নাশতায় সেদ্ধ ডিম, দুপুরের খাবারে ডিমের তরকারি কিংবা বিকেলের নাশতায় ডিম দিয়ে তৈরি কোনো পদ—খাদ্যতালিকায় ডিমের উপস্থিতি অনেকের কাছেই পরিচিত। সহজলভ্যতা, স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে ডিম জায়গা করে নিয়েছে নানা বয়সি মানুষের খাবারের তালিকায়। তবে দৈনন্দিন খাবারের পরিচিত এই উপাদানটি যে পুষ্টির চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই প্রতিবছর পালিত হয় বিশ্ব ডিম দিবস।
আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ব ডিম দিবস। ‘শক্তি ও পুষ্টিতে ভরপুর ডিম’ স্লোগান সামনে রেখে বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
ডিমকে পুষ্টিকর খাবারের অন্যতম সহজ উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিনসহ শরীরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ডিম শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্ব ডিম দিবসের মূল উদ্দেশ্যও ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এর গুরুত্ব তুলে ধরা। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা প্রচার-প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
যেভাবে শুরু বিশ্ব ডিম দিবস
১৯৯৬ সালে ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশনের (আইইসি) ভিয়েনা সম্মেলনে বিশ্ব ডিম দিবস পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ডিমের ভূমিকা তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
বাংলাদেশে বিশ্ব ডিম দিবস
বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর, ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশ শাখা এবং বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দেশজুড়ে শোভাযাত্রা, সেমিনার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম। বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও পুষ্টিবিষয়ক আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে বিনামূল্যে ডিম বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং সবার জন্য সুষম খাদ্যের গুরুত্ব তুলে ধরার ক্ষেত্রে বিশ্ব ডিম দিবস একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া গেলে খাদ্যাভ্যাসে পুষ্টিকর উপাদান যুক্ত করার বিষয়ে মানুষ আরও সচেতন হতে পারে।
পরিচিত ও বহুল ব্যবহৃত এই খাবারকে ঘিরে দিবসটির আয়োজন তাই শুধু ডিমের গুরুত্ব তুলে ধরার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোরও একটি উদ্যোগ। ‘শক্তি ও পুষ্টিতে ভরপুর ডিম’—এই বার্তাকে সামনে রেখে বিশ্ব ডিম দিবসের আয়োজন মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে পুষ্টির গুরুত্ব নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।
সময়ের আলো/জেডি