যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে ১৩ সেনাকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিডাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। ফায়ারিং স্কোয়াডে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে আগামী ৩ ডিসেম্বর।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এর আগে বলেছিলেন, হাসানের মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে কার্যকর করা হবে, যাতে মানুষ তা দেখতে পারে। তার ভাষায়, ‘এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি রয়েছে—মানুষের তা বোঝা প্রয়োজন।’ পরে প্রতিরক্ষা দফতরের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, মৃত্যুদণ্ডের পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা এবং আরও ৩২ জনকে আহত করেন তৎকালীন সেনা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হাসান। মোতায়েনের আগে চিকিৎসা পরীক্ষা ও টিকা নেওয়ার জন্য সেখানে অপেক্ষা করছিলেন সেনাসদস্যরা। ২০১৩ সালে সামরিক আদালতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৯৬১ সালের পর এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড। আর ফায়ারিং স্কোয়াডে সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল সর্বশেষ ১৯৪৫ সালে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে।
তবে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়ে আইনি ও নৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের নিয়ে কাজ করা আইনজীবী জন মিলসের মতে, আধুনিক যুগে এমন উদ্যোগ নজিরবিহীন এবং এর আইনি ভিত্তি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইয়েল ল স্কুলের ভিজিটিং লেকচারার ইউজিন আর ফিডেল সিদ্ধান্তটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, হাসান আইনি লড়াই চালিয়ে গেলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া কয়েক বছর পিছিয়ে যেতে পারে।
সামরিক আইনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। পাশাপাশি আপিলের প্রক্রিয়া এবং সাজা কার্যকরের বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত পর্যালোচনাও আবশ্যক। আইনজীবী মিলসের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসানের আপিলপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।
কোথায় বা কোন মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের সরাসরি সম্প্রচার করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও টিকটকের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে সহিংসতা ও মৃত্যুর দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের ১৭টি দেশে দুই হাজার ৭০০-এর বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এর মধ্যে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটেছে ইরান ও আফগানিস্তানে।
যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৩৬ সালে। আর সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১৯৪৫ সালের জানুয়ারিতে, যখন সেনাবাহিনী থেকে পলায়নের দায়ে এডি স্লোভিককে গুলি করে হত্যা করা হয়।
সময়ের আলো/জেডি