সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার ঘটনায় ইন্ধনদাতা হিসেবে অভিযোগ এনে শহিদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও শিবির নেতা আরিফুল ইসলামের সাময়িকভাবে ছাত্রত্ব বাতিলের তথা বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সিন্ডিকেট সদস্যরা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।
সংশ্লিষ্টদের সূত্রমতে, গত ২ অক্টোবর রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে আক্রমণাত্মক পোস্ট দেন রাবি ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি আহসান হাবীব। সেই পোস্টকে কেন্দ্র করে রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুলের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে পাল্টাপাল্টি পোস্ট করেন। এরপর ৩ অক্টোবর ঘোষণা দিয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাবির পরিবহন মার্কেটের সামনে অবস্থান করেন রাকসু নেতা রাকিবুল। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে অবস্থান নেন ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীব। তারা সেখানে রাত ১০টা পর্যন্ত অবস্থানের ঘোষণা দেন।
পরবর্তীতে সেখানে অবস্থানকালীন সময়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীব রাকসু জিএস সালাহউদ্দীন আম্মারকে ইঙ্গিত করে ফেসবুক পোস্টে লেখেন। কটূক্তিমূলক পোস্টের বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে পাল্টা আক্রমণাত্মক ভাষায় গালাগাল করে শহিদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও শিবির নেতা আরিফুল ইসলাম পাল্টা পোস্ট করেন। এরপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হল সংসদের জিএসের কক্ষ ভাঙচুর করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার পর ভিডিও ও সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেন রাবি শাখা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহসভাপতি আহসান হাবীবের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী।
শুক্রবার এ ঘটনায় প্রকাশিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ জিয়াউর রহমান হলে সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা এবং দোষীদের শাস্তির সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে তৈরি করা লিখিত প্রতিবেদন গতকাল মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অপরাধের ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় আহসান হাবীব, বিশাল চক্রবর্তী, হাসিবুল হাসান ও আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইন্ধনদাতা হিসেবে রাকসুর সহ-সংস্কৃতি সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম এবং হামলার ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম এবং ছাত্রদলকর্মী তানিম রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও বিভিন্ন ধরনের প্রমাণাদি অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে কমিটি।
একইসঙ্গে হল সংসদের জিএস ও শিবির নেতা আরিফুল ইসলাম ও রাকিবুল ইসলামকে শাস্তির আওতায় আনার মূল কারণ, তারা হামলার ঘটনায় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক রেজাউল করিম।
সাময়িকভাবে ছাত্রত্ব বাতিলের তথা বহিষ্কারের সুপারিশ বিষয়ে আরিফুল বলেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি চলাকালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা দিনভর ক্যাম্পাসে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, রামদা, চাপাতি নিয়ে মহড়া দিয়েছে। তারা সালাউদ্দিনকে নিয়ে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ ঘটনার বিপরীতে তিনি ফেসবুকে একটি পাল্টা পোস্ট (কাউন্টার পোস্ট) দিয়েছিলেন।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন,তদন্ত কমিটি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী চূড়ান্ত সুপারিশ ঘোষণা করা হলো।প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। অধিকতর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।
সময়ের আলো/আতা