কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ কৌশল গ্রহণ এবং এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টি বিবেচনা করতে ইউনেস্কোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।
জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেস্কো) নির্বাহী বোর্ডের ২২৫তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় বিবৃতি উপস্থাপনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউনেস্কোর নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি কাতারের নাসের বিন হামাদ আল হিনজাব।
বিবৃতিতে আবদুল খালেক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ইউনেস্কোকে যথাযথ কৌশল গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে সংস্থাটির কর্মপরিধির আওতায় এআইয়ের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষা খাতে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে শিক্ষা সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শিক্ষার পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ভর্তির হার বাড়ানো এবং প্রাথমিক পর্যায় থেকেই তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনা অব্যাহত রাখা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, আধুনিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ ও বহুমাত্রিক গুণাবলিসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে জাতীয় শিক্ষাক্রমে ক্রীড়াকে আনুষ্ঠানিক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী যুব ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
বিবৃতিতে মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষার প্রসার এবং প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি সুদৃঢ় করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন আবদুল খালেক। তিনি বলেন, পুষ্টি ও সামাজিক সহায়তা কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।
এ ছাড়া কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) সম্প্রসারণ এবং বিনা মূল্যে শিক্ষার সুযোগের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়েও বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন তিনি।
সময়ের আলো/এসএকে