বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি বছর ২৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডিম উৎপাদিত হয়, যার বিপরীতে বার্ষিক চাহিদা ১৮ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন। ফলে আমরা ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি উদ্বৃত্ত ডিম বিদেশে রফতানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি করেছি, বলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান।
বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের মেডিসিন বিভাগীয় গ্যালারিতে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
ড. বাহানুর রহমান বলেন, ডিম উৎপাদনের ক্ষেত্রে পোল্ট্রি ফিডের উচ্চমূল্য ও নানাবিধ রোগের প্রাদুর্ভাব বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ভ্যাকসিন, খামার ব্যবস্থাপনা ও ফিড মিলিয়ে একটি ডিম উৎপাদনে ১০ থেকে ১১ টাকা খরচ হয়। এমতাবস্থায় কৃষির মতো পোল্ট্রি খাতেও সরকারি ভর্তুকি দেওয়া জরুরি। এতে একদিকে যেমন খামারিদের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে, অন্যদিকে সাধারণ গ্রাহকরাও সাশ্রয়ী মূল্যে ডিম কিনতে পারবেন।
উপজেলা পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ চিকিৎসার তীব্র সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রতি উপজেলায় মাত্র একজন ভেটেরিনারিয়ান রয়েছেন, যার পক্ষে ৫০ থেকে ৬০ হাজার পশুর চিকিৎসা প্রদান করা প্রায় অসম্ভব। তাই প্রতিটি উপজেলায় অন্তত ৫ থেকে ৬ জন ভেটেরিনারিয়ানের পদ সৃষ্টির আহ্বান জানাচ্ছি।
‘প্রোটিন দ্যাট পাওয়ারস অ্যান্ড প্রোটেক্টস’ শীর্ষক এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম। মূল বক্তব্যে তিনি বলেন, ডিম একটি পূর্ণাঙ্গ খাবার বা ‘সুপারফুড’। একটি ডিমে প্রায় ৭২ ক্যালরি শক্তি এবং ৬.৩ গ্রাম প্রোটিন থাকে। এছাড়া এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, প্রয়োজনীয় ভিটামিন, সেলেনিয়াম এবং শরীর গঠনে দরকারি নয়টি অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড। ডিমে বায়োলজিক্যাল স্কোর সর্বোচ্চ (৯৪)। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ১-২টি এবং প্রবীণদের সপ্তাহে ৪-৫টি ডিম খাওয়া উচিত।
ডিমের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা তুলে ধরে তিনি জানান, মস্তিষ্ক ও মাংসপেশির বিকাশ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, হাড় ও দাঁত মজবুত করতে ডিম অত্যন্ত কার্যকর। ডিমে থাকা কোলিন উপাদান স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় ২৪ শতাংশ এবং সপ্তাহে চারটি ডিম খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ৩৮ শতাংশ কমে। এছাড়া ডিম হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে। তিনি আরও জানান, গত ১০ বছরে দেশে ডিমের উৎপাদন ২.৩ গুণ বেড়েছে এবং ডিম উৎপাদনে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে নবম স্থানে রয়েছে।
সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুক, ডিম দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সার্জারি-অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম, সদস্য সচিব ও মাইক্রোবায়োলজি-হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মারজিয়া রহমানসহ অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
এর আগে সকাল ১০টায় ভেটেরিনারি অনুষদের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন চত্বর, প্রশাসনিক ভবন ও প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনর্রায় অনুষদে এসে শেষ হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ক্যাম্পাসের সাতটি স্কুলের শিক্ষার্থী, পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে বিনামূল্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ডিম বিতরণ করা হয়।
সময়ের আলো/জোই