লক্ষ্মীপুরের রামগতি পৌরসভার আলেকজান্ডার মাদরাসায়ে বাবুত তাকওয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠানে শিশু শিক্ষার্থীদের শিকলে বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের একের পর এক ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব অমানবিক ঘটনার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসার পর থেকেই মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ও ইসলামী আন্দোলন রামগতি পৌরসভার সভাপতি হাবিবুল্লাহ নীরবের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। যেকোনো মুহূর্তে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। অবশ্য মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যে শিক্ষক এই নির্যাতন চালিয়েছেন, তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ঘরের দরজা বন্ধ করে আদনান নামের এক শিশু শিক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মারা হচ্ছে এবং একপর্যায়ে তার মাথায় আঘাত করা হচ্ছে। এরপর স্কেল দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশেও আঘাত করতে দেখা যায়। আরেকটি ভিডিওতে এক শিশুকে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করার দৃশ্য দেখা গেছে। অন্য আরেকটি ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করার চিত্র রয়েছে। এছাড়া দুটি ছবিতে দেখা যায়, দুটি শিশুকে জানালার সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব নিষ্ঠুর ঘটনা অন্য শিক্ষকরা সামনে বসে থাকলেও কোনো বাধা দিতেন না।
জানা যায়, মাদরাসাটিতে দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনার নামে শিশুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। সামান্য কারণে-অকারণে শিশুদের শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগও রয়েছে। এই অমানবিক ঘটনার সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিভাবকদের ভাষ্য, শিক্ষকরা শিশুদের সঙ্গে চরম অমানবিক আচরণ করতেন; কিন্তু ভয়ে শিশুরা বাড়িতে গিয়ে সেকথা বলত না। পরবর্তীতে ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেই শিক্ষকদের এই নিষ্ঠুরতা সবার সামনে চলে আসে। এই ঘটনায় জড়িত শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবকরা।
এদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আবদুল মতিন প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে এক শিক্ষকই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ নীরব দাবি করেছেন, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তিনি নিজে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক বর্তমানে পলাতক আছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া অভিভাবকরা তার সঙ্গে দেখা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি।
উল্লেখ্য, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে এই মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় জামাত পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
সময়ের আলো/আতা