সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। এর মধ্যেই বিএনপির সংসদীয় দলের সভা ডেকেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভায় সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক বিষয়েও সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।
সাধারণত সংসদের অধিবেশন শুরুর এক-দুই দিন আগে অথবা অধিবেশন চলাকালে সংসদীয় দলের সভা হয়। তবে এবার পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ নির্ধারণের আগেই সভা ডাকা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদের অধিবেশন শুরু হতে পারে।
বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের ধারণা, নিয়মিত বৈঠকের বাইরে এ সভা আহ্বানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ডেকেছেন, তিনি নিশ্চয়ই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বিষয়ে ইনস্ট্রাকশন (নির্দেশনা) দেবেন।’
ক্ষমতাসীন দলের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের অভিযোগ এখন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়। এর সাম্প্রতিক উদাহরণ রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা। এ ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি) পদত্যাগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন। ঘটনার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিনটি কমিটি বিলুপ্ত করা হয় এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়।
এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে দখল, চাঁদাবাজি ও সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দিয়েছে বিএনপি। সংসদীয় দলের সভায় এ ধরনের অভিযোগ মোকাবিলা এবং দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
সংবিধান সংশোধনের বিষয়টিও সভার আলোচনায় আসতে পারে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি কাজ করছে। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ২০ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল, সংবিধানবিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ বিষয়ে দলের অবস্থান ও সংসদ সদস্যদের করণীয় নিয়েও বৈঠকে নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপির জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ, গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই এবং তৃণমূলের প্রত্যাশা ও ক্ষোভ সামলানো দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রস্তুতি নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশনাও আলোচনায় আসতে পারে।
এ ছাড়া ক্ষমতায় আসার পর সরকারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখা বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কমিটি পুনর্গঠন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত এবং নেতা-কর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার মতো বিষয়ও বৈঠকে আলোচিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/এসএকে