এনবিআরের উদ্যোগ আছে সাড়া নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

বকেয়া রাজস্ব আদায়ে নানা উদ্যোগ নিয়েও আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতিতে কর

2026-10-11T00:29:08+00:00
2026-10-11T00:29:08+00:00
 
  রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬,
২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
অর্থনীতি
এনবিআরের উদ্যোগ আছে সাড়া নেই
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৯ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বকেয়া রাজস্ব আদায়ে নানা উদ্যোগ নিয়েও আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) পদ্ধতিতে কর বিরোধ মেটানো, বড় করদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক এবং দীর্ঘদিনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। বিভিন্ন আদালতে মামলা চলায় আটকে আছে ৮২ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকার রাজস্ব। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা জড়িত এমন ৫০টি বড় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। সংস্থা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে আদায়ের তুলনায় এ লক্ষ্য প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি। এমন পরিস্থিতিতে আদালতে আটকে থাকা রাজস্ব আদায় এবং দীর্ঘদিনের কর বিরোধ নিষ্পত্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। তবে আইনি জটিলতা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকটের কারণে উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও শুল্ক-সংক্রান্ত মোট ২৯ হাজার ৫১৯টি মামলায় ৮২ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকার রাজস্ব আটকে আছে। এর মধ্যে আয়কর খাতে ৫ হাজার ৫০০টি মামলায় ৩৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, ভ্যাট খাতে ১১ হাজার ৬৮৪টি মামলায় ৩৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং শুল্ক খাতে ১২ হাজার ৩৩৫টি মামলায় ৯ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা জড়িত।

ভ্যাট খাতের মামলাগুলোর মধ্যে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলোতেই আটকে আছে ২৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে আয়কর খাতের ১৬টি বড় মামলায় জড়িত প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। এসব মামলার তালিকা অর্থমন্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, সংস্থাটির তিনটি বিভাগ থেকে প্রায় ৫০টি বড় প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাওনা। বকেয়া আদায়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নেন অর্থমন্ত্রী। তবে এখন পর্যন্ত শুধু মোবাইল ফোন অপারেটরদের মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।

আরও জানা গেছে, বকেয়া কর বিরোধ নিষ্পত্তিতে এডিআর পদ্ধতি কার্যকর করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ জন্য গত বাজেটে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করা হয়। এ পদ্ধতিতে করদাতা ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। তবে অর্থবছরের প্রথম তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এ উদ্যোগে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে এনবিআরের সাবেক সদস্য (করনীতি) সৈয়দ আমিনুল করিম বলেন, এডিআরের মাধ্যমে বকেয়া কর আদায় করতে হলে রাজস্ব কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী উভয়কেই ছাড় দিতে হয়। কিন্তু উভয়পক্ষের মধ্যে ছাড় দেওয়ার মানসিকতার অভাব রয়েছে। এ ছাড়া আইনি জটিলতাও রয়েছে যেগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন।

দীর্ঘদিনের মামলা নিষ্পত্তির পাশাপাশি বকেয়া রাজস্ব আদায়ে আরও কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে এনবিআর। এর মধ্যে রয়েছে বুক অ্যাডজাস্টমেন্ট, প্রয়োজনে ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং সার্টিফিকেট মামলা। রাজস্ব-সংশ্লিষ্ট বড় মামলাগুলো দ্রুত শুনানির জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আদালতের কার্যতালিকায় নেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে।

এ ছাড়া রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনায় দীর্ঘদিনের অডিট জট নিরসনেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এনবিআরের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে প্রায় ৬৬ হাজার করদাতার অডিট দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব-সংশ্লিষ্ট ২৩টি বড় কর বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে করদাতাদের দায় নির্ধারণ এবং সরকারের পাওনা আদায়ের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর সূত্র।

রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি : দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঘাড়ে ফের বড় লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে সংস্থাটি। কর ফাঁকি রোধ, বকেয়া কর আদায়, কর জাল বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এনবিআর। তবে বাজেট পাশ হওয়ার পর ত্রৈমাসিক ভ্যাট রিটার্ন পদ্ধতি থেকে সরে এসে ফের প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন, প্যাকেজ ভ্যাট চালু করাসহ এনবিআরের একাধিক সিদ্ধান্তে বিচলিত খাত-সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, এনবিআরের নানামুখী উদ্যোগের পরও রাজস্ব আদায় সন্তোষজনক নয়। এ কারণে প্রায় তিন মাসের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায়ের তথ্য অফিসিয়ালি প্রকাশ করেনি এনবিআর। এ বিষয়ে এনবিআরের দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, আয়কর আইনের পরিবর্তন ও ভ্যাট রিটার্ন জমার নিয়ম পরিবর্তনের কারণে সমন্বয় করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। এখানে গোপন করার কিছু নেই। তবে জানা গেছে, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও দেশে চলমান জ্বালানি সংকটে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে ব্যক্তি আয় ও রাজস্ব আদায়ে।

এ ছাড়া আগে কর দিলে আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা থাকলেও সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ছয় লাখের কিছু কম রিটার্ন দাখিল হয়েছে। গত অর্থবছর পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর। 

তবে কয়েক দফা বাড়িয়ে তা ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। গত কর বছরে সবশেষ করবর্ষে রিটার্ন জমা দিয়েছিলেন ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার করদাতা। এনবিআরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ।

দেশে বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধিত বা বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বরধারী (বিআইএন) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮ লাখের বেশি। এর মধ্যে প্রতি মাসে প্রায় ৫ লাখ রিটার্ন জমা পড়ে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টের সাময়িক হিসাবে দেখা গেছে, আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ভ্যাট আদায় প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, গত জুলাইয়ে ভ্যাট আদায় হয়েছে ৯ হাজার ৩০১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। আবার আগস্টের সাময়িক হিসাবে ভ্যাট আদায় হয়েছে ৮ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। আগের বছরের আগস্টে এর পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৮১ কোটি টাকা। এ ছাড়া গত জুনের তুলনায় জুলাইয়ে ভ্যাট রিটার্ন জমার সংখ্যাও কমেছে। জুনে ৩ লাখ ২৮ হাজার ভ্যাট রিটার্ন জমা পড়লেও জুলাইয়ে তা কমে ৩ লাখ ৬ হাজারে নেমেছে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও
  বিষয়:   এনবিআর  উদ্যোগ  সাড়া নেই  সময়ের আলো  এডিআর 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: