মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছেন বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস ইনস্টিটিউটের (বিএইচপিআই) অকুপেশনাল থেরাপি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা।
কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের হিঙ্গাজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অকুপেশনাল থেরাপি বিভাগের প্রভাষক আজিম হোসেন ও দিশা বিশ্বাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত কর্মসূচিটির প্রতিপাদ্য ছিল—‘জীবনের অভিজ্ঞতা শুনি: সত্যিকারের কথা, সত্যিকারের পরিবর্তন’।
এ ছাড়া কুলাউড়ায় তিন দিনব্যাপী জরিপও পরিচালনা করেন শিক্ষার্থীরা। জরিপের প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসার ঘাটতি প্রায় ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ, আক্রান্ত প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৯ জন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করছেন না। শিশুদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসা না পাওয়ার হার প্রায় ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ।
এই জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির জন্য অকুপেশনাল থেরাপি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা কিশোর-কিশোরীদের বেছে নেন। কারণ, শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক পরিবর্তনের পাশাপাশি তারা নানা ধরনের মানসিক চাপ ও আবেগীয় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এ ছাড়া কিশোর-কিশোরীদের হাত ধরেই সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে পরিবর্তন আনা সম্ভব।
কর্মসূচিতে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব, মানসিক সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ ও শনাক্তকরণ, মানসিক চাপ মোকাবিলা, সুস্থ জীবনযাপন এবং প্রয়োজনে যথাযথ পেশাজীবীর কাছ থেকে সহায়তা নেওয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মানসিক রোগ নিয়ে সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন কুসংস্কার, ভুল ধারণা ও নেতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানো হয়।
অকুপেশনাল থেরাপি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতাও একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা, কর্মক্ষমতা, সামাজিক সম্পর্ক এবং সামগ্রিক জীবনমানের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
আয়োজকরা মনে করেন, প্রতিবন্ধিতা বা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা কোনো ব্যক্তির জীবনের শেষ নয়। উপযুক্ত পুনর্বাসন, সহায়তা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা একজন মানুষকে আবারও তাঁর প্রয়োজনীয় ও অর্থবহ কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনতে পারে।
সময়ের আলো/জেডআই