ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করতে বিমান সংস্থা, যাত্রী ও বিমানবন্দরের কর্মীদের প্রতি নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হওয়ার পর রোববার এ হুঁশিয়ারি দেয় গোষ্ঠীটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটি ছিল তৃতীয় হামলা। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এ ধরনের হামলায় এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা।
হুতিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দর ছাড়া সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দর ও আকাশসীমা হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই বিমান সংস্থা, বিশেষজ্ঞ, কর্মী ও যাত্রীদের এসব বিমানবন্দর ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাদের সতর্কবার্তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত এবং হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হলে এর দায় সৌদি আরবকে বহন করতে হবে।
ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হচ্ছে
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে সৌদি আরব। গত মাসে লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত এলাকা দখলে নেওয়ার পর হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে সৌদি বাহিনী। একই সঙ্গে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পাল্টা অভিযানে সহায়তা দিচ্ছে রিয়াদ।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার জানিয়েছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা বৃহত্তর যুদ্ধের প্রভাবও ইয়েমেনের সংঘাতে ছড়িয়ে পড়ছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, শনিবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র পড়ে। রোববার ওই অঞ্চলে একটি ড্রোন প্রতিহত করার কথাও জানিয়েছে জোটটি।
রিয়াদ বিমানবন্দরে কার্যক্রম স্থগিত
হামলার পর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাইয়ের পর কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে কখন ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ১২ জনের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ও দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের নাগরিকও নিহত হয়েছেন।
এর আগে সপ্তাহের শুরুর দিকে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরও দুটি হামলায় চারজন নিহত হন। ওই হামলায় বিমানবন্দরের রানওয়েতে থাকা সৌদি আরবের একটি বাণিজ্যিক বিমানও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হামলার মধ্যেও জ্বালানি সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেও রিয়াদে পূর্বনির্ধারিত পাঁচ দিনব্যাপী ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কাউন্সিল (ডব্লিউপিসি) এনার্জি কংগ্রেস আয়োজনের পরিকল্পনা বহাল রেখেছে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
রোববার থেকে শুরু হওয়া এ সম্মেলনে ৭০ জনের বেশি মন্ত্রী, ৩০০ জন কোম্পানি নির্বাহী এবং ২৫টিরও বেশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনস্থলটি বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
তবে অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি উপস্থিত থাকবেন, নাকি ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই দিনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের একটি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, নিরাপত্তাজনিত কারণে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাস বন্ধ রেখে অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা চালুর বিষয়ে অভিভাবকদের জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ