সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় বদরুল আলম (৩২) নামে সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাদেক মিয়া নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের গুরাগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বদরুল আলম গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের হাদারপার গ্রামের মৃত মাওলানা তজম্মুল আলীর ছেলে। তিনি রুস্তুমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি বালু ব্যবসা ও গরুর খামার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। আহত সাদেক মিয়া লামা হাদারপার গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফজরের নামাজের সময় সাদেক মিয়ার চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা সোনা মিয়া ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তিনি শাহিন ও তুহিন নামে দুজনকে ধারালো ছুলফি দিয়ে বদরুলকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে দেখেন বলে জানা গেছে। পরে স্বজনেরা বদরুল ও সাদেককে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বদরুলকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় ভাই ও উপজেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক আখলাকুল আম্বিয়া অভিযোগ করেন, মনরতল বাজার থেকে ব্যবসায়িক টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে গুরাগ্রামের শাহিন, তুহিন ও মামুনসহ কয়েকজন তাঁর ভাইয়ের পথরোধ করে হামলা চালান। এতে তাঁর ভাই নিহত হন।
এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে আনা গরুর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট একটি সিন্ডিকেটের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ সময় নিহত ও আহত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এ ঘটনায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/এনএন