গোল করে উল্লাসে মাতলেন, কোচের উদযাপনেও যোগ হলো বাড়তি মাত্রা। মনে হচ্ছিল, ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। কিন্তু সেই আনন্দ টিকল না বেশিক্ষণ। ভিএআরের হস্তক্ষেপে গোল বাতিল, এরপর সরাসরি লাল কার্ড। কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে দৃশ্যপট বদলে গেল পুরোপুরি— হিরো থেকে জিরো বনে গেলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। যদিও ১০ জনের দল নিয়েও ভিয়ারিয়ালকে ১-০ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে গেতাফেকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে লা লিগায় নিজেদের জয়ের ধারা ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। আলাভেসের মাঠ থেকে ২-১ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদও।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পায়নি রিয়াল। কিলিয়ান এমবাপের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। বিরতির আগে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের পাস থেকেও সুযোগ পেয়েছিলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড, তবে তার শট আটকে দেন প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক। বিরতির পর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। অবশেষে ৬২ মিনিটে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফেদেরিকো ভালভার্দের পাস থেকে বল জালে পাঠান ইয়ান দিয়োমান্দে।
তারপরই ম্যাচের আলোচিত মুহূর্তের জন্ম দেন ভিনি। ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামের পাস থেকে গোল করেন ভিনি, উদযাপনও করেন। কিন্তু ভিএআরের হস্তক্ষেপে বাতিল হয় গোলটি। পুনরায় দেখে রেফারি নিশ্চিত হন, গোলের আগ মুহূর্তে ভিয়ারিয়ালের নাথান সালিবার চুল টেনেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। সেই অপরাধে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ভিনিকে।
মুহূর্ত আগেও গোলের নায়ক, পরক্ষণেই লাল কার্ডে আলোচনার কেন্দ্রে— ভিনির জন্য ম্যাচটি হয়ে থাকল তিক্ত অভিজ্ঞতার। তবে একজন কম নিয়ে খেলেও জয় ধরে রাখে রিয়াল। শেষ দিকে ভিয়ারিয়ালের আক্রমণ সামলে এক গোলের ব্যবধান অক্ষুণ্ন রাখেন গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।
এদিকে গেতাফের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। ৩০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। বিরতির পরও আক্রমণের ধার কমায়নি কাতালানরা। ৭৩ মিনিটে লামিন ইয়ামালের কর্নার থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলের তৃতীয় গোল করেন জুলস কুন্দে। তাতে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। এই জয়ে লা লিগায় মৌসুমের প্রথম আট ম্যাচেই জয়ের কীর্তি গড়ল বার্সা।
এর আগে ২০১৩-১৪ মৌসুমে জেরার্দো মার্তিনোর অধীনেও প্রথম আট ম্যাচ জিতেছিল দলটি। চলতি মৌসুমে আট ম্যাচে তাদের গোলসংখ্যা ৩৪। হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্রতিপক্ষের ওপর ধারাবাহিক চাপ তৈরি করছে দলটি।
অন্য ম্যাচে আলাভেসের মাঠে শুরুতে এগিয়ে গিয়েও বিরতির আগে সমতায় ফিরেছিল অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর করা গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় পেয়েছে দিয়েগো সিমিওনের দল। ৩১ মিনিটের দিকে জোনাথন ডেভিডের পাস থেকে গোল করেন আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো। প্রথমার্ধের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে গোল করে আলাভেসকে সমতায় ফেরান লুকাস বোয়ে। বিরতির পর জুলিয়ান আলভারেজকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন আলাভেসের আনহেল পেরেজ। ফলে ম্যাচের বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় স্বাগতিকদের।
একজন কম প্রতিপক্ষে জয়সূচক গোলের জন্য শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে অ্যাথলেটিকোকে। ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে অ্যালেক্স বায়েনার ক্রস থেকে হেডে গোল করেন রোমেরো। তাতেই নিশ্চিত হয় সিমিওনের দলের তিন পয়েন্ট। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে তারা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি