চাঁদা দাবির অভিযোগে বান্দরবান-থানচি সড়কে টানা ৩ দিন ধরে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ সড়কে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ যাত্রীরা। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে চাঁদের গাড়ি (জিপ) ভাড়া করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে তাদের। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বান্দরবান-থানচি বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাসচালক ও মালিক সমিতির সদস্যদের অভিযোগ, বান্দরবান-থানচি সড়কে বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখতে একটি সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা চালক ও মালিকদের কাছে বছরে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। এ নিয়ে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চললেও কোনো সমাধান হয়নি। পাশাপাশি বাস চালালে অপহরণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার আশঙ্কায় বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন তারা।
থানচির ছোট মদক এলাকার বাসিন্দা পূর্ণিমা ত্রিপুরা জানান, বাসস্টেশনে এসে সকাল থেকে দুই-তিন ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেছেন। পরে অন্য যাত্রীদের সঙ্গে চাঁদের গাড়ি ভাড়া করে বাড়ি যেতে হচ্ছে। এতে নির্ধারিত ভাড়ার প্রায় দ্বিগুণ টাকা খরচ হচ্ছে।
বাসচালক মো. আব্দুল খালেক জানান, বান্দরবান-থানচি সড়কে বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখতে একটি সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা বছরে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। এ নিয়ে তিন মাস ধরে বাসমালিকদের সঙ্গে আলোচনা চললেও কোনো সমাধান হয়নি। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
বান্দরবান-থানচি বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আলম বলেন, ‘একটি সশস্ত্র সংগঠনের সদস্যরা চালকদের এই সড়কে গাড়ি চালাতে নিষেধ করেছেন। গাড়ি চালালে অপহরণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির সদস্যরা আলোচনায়ও বসছেন না। এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সড়কটিতে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।’
এ বিষয়ে বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘কারা বাসমালিকদের কাছে চাঁদা দাবি করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত এই সড়কে যাত্রীবাহী বাস চলাচল চালু করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
সময়ের আলো/মহু