মোবাইলের ইমার্জেন্সি ব্যালান্স ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব

সময়ের আলো ডেস্ক

বিবিধ

মোবাইল ফোনে জরুরি প্রয়োজনে নেওয়া ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সর্বোচ্চ সীমা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে দেশের মোবাইল

2026-10-12T18:27:36+00:00
2026-10-12T19:00:33+00:00
 
  সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬,
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
বিবিধ
মোবাইলের ইমার্জেন্সি ব্যালান্স ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৭ পিএম 
বিটিআরসি। সংগৃহীত ছবি
মোবাইল ফোনে জরুরি প্রয়োজনে নেওয়া ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সর্বোচ্চ সীমা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে দেশের মোবাইল অপারেটরগুলো। এ প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০০ টাকার বেশি থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নিলে সর্বোচ্চ ১০ টাকা সেবা ফি দিতে হতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে প্রযোজ্য কর। ফলে করসহ মোট ফি দাঁড়াতে পারে ১৩ টাকা ৯০ পয়সা।  

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ কমিশন সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মোবাইল অপারেটরগুলোর মতে, বর্তমান সীমার কারণে অনেক গ্রাহক প্রয়োজনীয় ডেটা বা মিনিটের প্যাকেজ কিনতে পারেন না। ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের পরিমাণ বাড়ানো হলে গ্রাহকদের বেশি দামের প্যাকেজ কেনার সুযোগ তৈরি হবে। 

বিটিআরসির সর্বশেষ নথি অনুযায়ী, বর্তমানে ২০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স গ্রহণের ক্ষেত্রে সেবা ফি ২ টাকা। কর যুক্ত হলে এই ফি বেড়ে দাঁড়ায় ২ টাকা ৭৮ পয়সা।

রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অনেক সময় গ্রাহকেরা ইমার্জেন্সি ব্যালান্স ব্যবহার করেও প্রয়োজনীয় প্যাকেজ কিনতে পারেন না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো প্যাকেজের মূল্য ৩১০ টাকা হলে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দিয়ে তা কেনা সম্ভব নয়। ব্যালান্সের সীমা ৫০০ টাকা করা হলে গ্রাহকেরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বেশি দামের প্যাকেজও কিনতে পারবেন।

বাংলাদেশে বর্তমানে চারটি মোবাইল অপারেটর সেবা দিচ্ছে। এগুলো হলো গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটক। বিটিআরসির হিসাব অনুসারে, চারটি অপারেটরের মোট গ্রাহকসংখ্যা ১৯ কোটির বেশি।

প্রাথমিকভাবে জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকদের অল্প পরিমাণ ব্যালান্স দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইমার্জেন্সি ব্যালান্স সেবা চালু করা হয়েছিল। ২০১৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিটিআরসি নির্দেশনা দেয়, গ্রাহকদের অন্তত ১০ টাকা ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দিতে হবে এবং এ সুবিধার জন্য কোনো চার্জ নেওয়া যাবে না। পরবর্তী সময়ে, একই বছরের ২ জুলাই অপারেটরদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ১০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স বিনা চার্জে দেওয়া হবে। এর বেশি পরিমাণ ব্যালান্সের ক্ষেত্রে সেবা ফি নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

বর্তমানে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে করসহ সেবা ফি ২ টাকা ৭৮ পয়সা। অন্যদিকে, টেলিটকের ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ টাকা এবং এর জন্য করসহ ৬ টাকা ৯৫ পয়সা ফি দিতে হয়।

অপারেটরগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ইমার্জেন্সি ব্যালান্স সেবা এখন আর শুধু টাকা ধার দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর আওতায় মিনিট লোন, ডেটা লোন, ‘বাই নাও পে লেটার’ এবং বিভিন্ন প্যাকেজ কেনার সুবিধাও যুক্ত হয়েছে। এসব সেবার মাধ্যমে গ্রাহকেরা আগে ব্যবহার করেন এবং পরে অর্থ পরিশোধ করেন। পরবর্তী সময়ে রিচার্জ করলে সেখান থেকে বকেয়া অর্থ ও প্রযোজ্য ফি কেটে নেওয়া হয়।

মোবাইল অপারেটর সূত্রের দাবি, চারটি অপারেটর মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ লাখ গ্রাহক ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নিয়ে থাকেন। তবে এ ঋণের অর্থ সরাসরি মোবাইল অপারেটরগুলো সরবরাহ করে না। অপারেটরগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বে থাকা অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ অর্থের জোগান দেয়। এ কারণে ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবটি গ্রাহকদের সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঋণসেবার পরিধি সম্প্রসারণের বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। 

ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানোর উদ্যোগ প্রথমে নেয় গ্রামীণফোন। ২০২৬ সালের ৩ মার্চ বিটিআরসির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অপারেটরটি সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দেওয়ার অনুমতি চায়। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ২০ টাকা সেবা ফি নির্ধারণের প্রস্তাবও দেয় তারা। গ্রামীণফোনের যুক্তি ছিল, বেশি দামের প্যাকেজ কেনা এবং জরুরি সময়ে যোগাযোগসেবা সচল রাখতে গ্রাহকদের আরও বেশি ব্যালান্সের প্রয়োজন হয়।


গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে ডেটা ব্যবহার ও ডিজিটাল সেবার চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে স্মার্টফোন ব্যবহারকারী এবং তুলনামূলক বেশি ডেটা ব্যবহার করেন এমন গ্রাহকদের জন্য বিদ্যমান ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সীমা অনেক ক্ষেত্রেই যথেষ্ট নয়। তার মতে, ব্যালান্সের সীমা বাড়ানো হলে তা গ্রাহকদের বর্তমান ব্যবহারপ্রবণতা ও যোগাযোগের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। 

তবে গ্রামীণফোনের এই প্রস্তাবে অন্য অপারেটরগুলো আপত্তি জানায়। গত ২১ জুন বিটিআরসির সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তারা জানায়, শুধু একটি অপারেটরকে এ ধরনের সুবিধা দেওয়া হলে বাজারে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে অসমতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি অনাদায়ি অর্থের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। পরে বিটিআরসি সব অপারেটরের জন্য একটি অভিন্ন প্রস্তাব তৈরির দায়িত্ব মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবকে দেয়।

চলতি বছরের ২৩ জুলাই অ্যামটব বিটিআরসির কাছে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স দেওয়ার প্রস্তাব জমা দেয়। এতে ১০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্সের জন্য কোনো সেবা ফি না রাখা, ১০ টাকার বেশি থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্সের ক্ষেত্রে ২ টাকা এবং ২০০ টাকার বেশি থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্সের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা ফি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়।  

পরবর্তী সময়ে, ২০ আগস্ট বিটিআরসি ও অ্যামটবের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ২০০ টাকার বেশি থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ টাকা সেবা ফি রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

অ্যামটব সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণফোন, রবি ও টেলিটক এ প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হয়েছে। তবে বাংলালিংক ব্যালান্সের পরিমাণ অনুযায়ী বিভিন্ন ধাপে সেবা ফি নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে।

বাংলালিংকের প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নিলে ২ টাকা, ২১ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত নিলে ৩ টাকা এবং ১৫১ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নিলে ৬ টাকা সেবা ফি দিতে হবে। অন্যদিকে, ৪০১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্স গ্রহণের ক্ষেত্রে ফি নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে ১০ টাকা।

বাংলালিংকের এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ২০০ টাকার কম ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নেওয়া কিছু গ্রাহককেও বর্তমানে প্রচলিত ফির তুলনায় বেশি অর্থ দিতে হতে পারে। কারণ, বর্তমান ব্যবস্থায় ২০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স নেওয়ার জন্য সেবা ফি মাত্র ২ টাকা।

বর্তমান নিয়মে ২০০ টাকা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি ব্যালান্স গ্রহণ করলে করসহ ২ টাকা ৭৮ পয়সা ফি দিতে হয়। একই হারে কর প্রযোজ্য হলে ২০০ টাকার বেশি থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যালান্সের জন্য প্রস্তাবিত ১০ টাকা সেবা ফির সঙ্গে কর যুক্ত হয়ে মোট ফি দাঁড়াতে পারে ১৩ টাকা ৯০ পয়সা।

তবে ইমার্জেন্সি ব্যালান্সের সর্বোচ্চ সীমা ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতা হলেও নতুন ব্যবস্থা এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি। বিটিআরসির অনুমোদন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই নতুন সীমা ও সেবা ফির কাঠামো সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ

  বিষয়:   মোবাইল  ইমার্জেন্সি ব্যালান্স 


Advertisement
Loading...
Loading...
বিবিধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: