ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোর আলোচনা। শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে—এমন প্রত্যাশার মধ্যে সভাপতি বা আহ্বায়ক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। নতুন কমিটিতে অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ের পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সভাপতি বা আহ্বায়ক পদে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১২ আসন বিএনপি তার জোট শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে ছেড়ে দিলে ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন তিনি। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কর্মকাণ্ড পরিচালনা দায়ে তখন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক পদ থেকে বহিষ্কারও হন এই নেতা।
তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের দুঃসময়ে ভূমিকা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে তার নাম নতুন করে আলোচনায় এসেছে।সাম্প্রতিক সাংগঠনিক সংকট কাটিয়ে মহানগর উত্তর বিএনপিকে কার্যকর অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে তার নেতৃত্বকে নতুন করে মূল্যায়ন করার কথা ভাবছে বিএনপি। এর আগে তিনি জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
একই পদে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ছাত্রনেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ রহমান হলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে মহানগর উত্তর বিএনপির নেতৃত্বের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছেন তিনি। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
এ ছাড়া বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নামও সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। তবে এসব নাম নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
সাধারণ সম্পাদক পদেও একাধিক নাম
অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক কমিশনার আনারুজ্জামান আনোয়ার, মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী ইউসুফ এবং সাবেক দফতর সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।
নতুন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক জ্যেষ্ঠতা নয়, সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং দলের অভ্যন্তরে গ্রহণযোগ্যতাও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সাংগঠনিক সংকট কাটিয়ে মহানগর উত্তর বিএনপিকে কার্যকর অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
কেন বিলুপ্ত করা হয়েছিল আগের কমিটি?
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সাম্প্রতিক কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগের পর এ সিদ্ধান্ত আসে। একই সময়ে যুবদল ও ছাত্রদলের স্থানীয় শাখার কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। পাশাপাশি বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও হয় সেসময়।
দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, কমিটি বিলুপ্তির পর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদক্ষেপ। নতুন কমিটির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি ফেরানোর প্রত্যাশা রয়েছে।
ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়নের প্রত্যাশা
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। রাজনৈতিক সংগঠনে পুনর্গঠন একটি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া। নতুন কমিটিতে রাজপথের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে বলে আমি আশাবাদী।’
তার এই বক্তব্যের পর নতুন কমিটিতে কারা স্থান পাচ্ছেন, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা এবং সাংগঠনিক সক্ষমতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
সব মিলিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি ঘিরে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। তবে সভাপতি বা আহ্বায়ক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের নাম এখনো সম্ভাবনার পর্যায়েই রয়েছে। বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কারও পদপ্রাপ্তি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে মহানগর উত্তর বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা।
সময়ের আলো/জেডি