অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রফতানির কেন্দ্রে তুরস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

প্রচলিত বাজারের বাইরে গিয়ে নতুন গন্তব্যে রফতানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের বাজার পরিধি বিস্তৃত করার চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে। তবে

2026-10-12T23:07:58+00:00
2026-10-12T23:07:58+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬,
২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
অর্থনীতি
অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রফতানির কেন্দ্রে তুরস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৭ পিএম 
অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রফতানির কেন্দ্রে তুরস্ক
প্রচলিত বাজারের বাইরে গিয়ে নতুন গন্তব্যে রফতানি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের বাজার পরিধি বিস্তৃত করার চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে। তবে রফতানির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, এই বাজারেও বাংলাদেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি নির্ভর করছে গুটিকয়েক দেশের ওপর। বিশেষ করে তুরস্কের বাজারে রফতানির অভাবনীয় উল্লম্ফনই এখন এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালক। দেশটিতে রফতানি বেড়েছে ১২৩ শতাংশের বেশি। অথচ তুরস্ককে হিসাবের বাইরে রাখলে শীর্ষ পাঁচ অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি বৃদ্ধির হার নেমে আসে মাত্র ১ শতাংশের কাছাকাছি।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ১৮১ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়ায় রফতানি হয়েছে ১০২ কোটি ৫২ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পাঁচ দেশে রফতানির পরিমাণ ছিল ৯৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। সেই হিসাবে রফতানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ।

কিন্তু এই প্রবৃদ্ধির ভেতরের চিত্র আরও তাৎপর্যপূর্ণ। পাঁচ দেশে রফতানি বৃদ্ধির প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে তুরস্কের বাজার থেকে। ফলে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও তা সব বাজারে সমানভাবে ছড়ায়নি। বরং একটি দেশের বাজারে রফতানির বড় উল্লম্ফনই সম্মিলিত প্রবৃদ্ধির হিসাবকে এগিয়ে নিয়েছে।

প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রে তুরস্ক : চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে তুরস্কে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ১৪ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে রফতানি বেড়েছে ৮ কোটি ৯ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধির হার ১২৩ দশমিক ১৪ শতাংশ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই পাঁচ দেশে সম্মিলিত রফতানি বৃদ্ধির প্রায় ৯০ শতাংশের সমান এসেছে তুরস্কের বাজার থেকে। তুরস্ককে বাদ দিলে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ায় সম্মিলিত রফতানি বৃদ্ধির হার দাঁড়ায় মাত্র ১ দশমিক ০৪ শতাংশ।

বড় বাজার জাপান, কিন্তু প্রবৃদ্ধি সীমিত : অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় গন্তব্য জাপান। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশটিতে ৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ২ দশমিক ৬১ শতাংশ। অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের মোট পোশাক রফতানির ১৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ এসেছে জাপান থেকে। রফতানির পরিমাণে শীর্ষে থাকলেও জাপানের বাজারে প্রবৃদ্ধি তুরস্কের তুলনায় অনেক কম। অর্থাৎ বড় বাজার হিসেবে জাপানের গুরুত্ব অক্ষুণ্ন থাকলেও সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধিতে তুরস্কের ভূমিকা অনেক বেশি।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটিতে প্রথম তিন মাসে তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ০২ শতাংশ।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে রফতানি হয়েছে ২০ কোটি ৪৯ লাখ ডলারের পণ্য। তবে এরপরও দেশটিতে রফতানি কমেছে ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। শীর্ষ পাঁচ বাজারের মধ্যে ভারতই একমাত্র দেশ, যেখানে আলোচ্য সময়ে তিন মাসের হিসাবে রফতানি কমেছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় রফতানি হয়েছে ১২ কোটি ৯ লাখ ডলারের পোশাক। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। তুরস্কের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক ভালো হলেও রফতানি বৃদ্ধির পরিমাণে দুই দেশের ব্যবধান অনেক।

সেপ্টেম্বরে তুরস্কের প্রবৃদ্ধি ২২৫ শতাংশ : তুরস্কের বাজারে রফতানির প্রবৃদ্ধি শুধু তিন মাসের হিসাবেই নয়, সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট। ওই মাসে দেশটিতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ৪ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের। আগের বছরের একই মাসে রফতানির পরিমাণ ছিল এর চেয়ে অনেক কম। বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

একই মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় রফতানি ৩৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ৪ কোটি ৪৫ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জাপানে রফতানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ, পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। তবে সেপ্টেম্বরেও ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় রফতানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ছিল। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ভারতে রফতানি কমেছে শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ায় কমেছে শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ।

পাঁচ দেশেই অপ্রচলিত বাজারের ৫৭ শতাংশ : অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির প্রায় ৫৭ শতাংশই যাচ্ছে পাঁচটি দেশে। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অপ্রচলিত বাজারে মোট রফতানি হয়েছে ১৮১ কোটি ডলারের। এর মধ্যে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্মিলিত অংশ ৫৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এতে দুটি বিষয় লক্ষণীয় উঠে উঠেছে; প্রথমত অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও সীমিতসংখ্যক গন্তব্যের ওপর নির্ভরশীল। দ্বিতীয়ত এই পাঁচ দেশের মধ্যেও প্রবৃদ্ধির প্রধান চালক হয়ে উঠেছে তুরস্ক।

প্রচলিত বাজারের বাইরে রফতানি সম্প্রসারণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট কয়েকটি বাজারের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং নতুন ক্রেতা ও গন্তব্য তৈরি করা। কিন্তু অপ্রচলিত বাজারের রফতানি যদি কয়েকটি দেশের মধ্যে কেন্দ্রীভূত থাকে তা হলে বাজার সম্প্রসারণের সুফল কতটা বিস্তৃত হচ্ছে, সেই প্রশ্ন সামনে আসে।

বাজারভিত্তিক পরিসংখ্যান বলছে, অপ্রচলিত বাজারে এই রফতানি প্রবৃদ্ধি এখনও সমানভাবে বিস্তৃত নয়। তুরস্কের বাজারে রফতানি বৃদ্ধির বড় অবদান অন্য বাজারগুলোর তুলনামূলক ধীর প্রবৃদ্ধিকে আড়াল করছে। এ ক্ষেত্রে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে প্রবৃদ্ধির সীমাবদ্ধতা এবং ভারতের বাজারে রফতানি কমে যাওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সময়ের আলো/কেএইচও
  বিষয়:   অপ্রচলিত বাজার  পোশাক রফতানি  তুরস্ক  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: