কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে পাওয়া গেছে ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম স্বর্ণ ও ১২ কেজি ৬৯০ গ্রাম রুপা। গত ছয় বছরে নগদ টাকা ছাড়া এসব স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়। এসময় বিপুল পরিমানে বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ৮ হাজার ৫৭ ডলার, সৌদি আরবের ৫৭ হাজার ৪১৪ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ২৯ হাজার ৬৬২ রিঙ্গিত, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ১৪ হাজার ২৪০ দিরহাম, কুয়েতের ৭৬৭ দশমিক ৫ দিনার, ওমানের ৮৮৮ রিয়াল ৩৪৮ বাইসা, কাতারের ৭ হাজার ৯৭৩ রিয়াল, বাহরাইনের ৩৩৩ দিনার, সিঙ্গাপুরের ১ হাজার ৭১৮ ডলার, যুক্তরাজ্যের ১ হাজার ২২০ পাউন্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫ হাজার ২৪৫ ইউরো, অস্ট্রেলিয়ার ৫৫৫ ডলার, কানাডার ২৫ ডলার, মালদ্বীপের ৯০০ রুফিয়া, জর্ডানের ৯২ দিনার, ভারতের ৩৭ হাজার ৮৭৭ রুপি ও চীনের ৩০৫ ইউয়ান।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিনভর গণনা ও পরিমাপের পর রাত ১০টার দিকে এ তথ্য জানানো হয়। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দীর্ঘ ছয় বছর পর সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রা পরিমাপের কাজ শুরু হয়।
জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কার্যক্রমে দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণালংকার, রুপা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পৃথকভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। পরে এসব সামগ্রীর ওজন নির্ধারণ ও গণনার মাধ্যমে সঠিক পরিমাণ হিসাব করা হয়।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সারা দিন ধরেই কার্যক্রম চলে।
এ সময় শহরের ১০ জন স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও ১৫ জন ব্যাংক কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিভিন্ন স্বর্ণালংকার আলাদা করে ওজন দেওয়া হয়। একইভাবে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা আলাদা করে হিসাব করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ জানান, দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণ ও রুপা পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নিলামে বিক্রি করা হবে। আর বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
জানা যায়, গত ২৭ জুন দীর্ঘ ছয় মাস পর পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়। সেদিন দানবাক্সগুলো থেকে রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ গণনার জন্য প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ৫৯০ সদস্যের একটি দল অংশ নেয়। ধাপে ধাপে নগদ অর্থ গণনার পাশাপাশি দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালংকার, রুপা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও পৃথক করা হয়।
নগদ অর্থ গণনার কাজ শেষ হলেও স্বর্ণালংকার, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের জন্য পৃথকভাবে শ্রেণিবিন্যাস, ওজন পরিমাপ ও গণনার প্রয়োজন হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এসব মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে।
গণনা শেষে স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রা কিশোরগঞ্জ কালেক্টরেটের ট্রেজারিতে জমা রাখা হয়। পরে স্বর্ণালংকার ও রুপা নিলামে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।
২০২০ সালের ১১ মার্চ সবশেষ দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব করা হয়েছিল। তখন ৪১৫ ভরি এক আনা স্বর্ণালংকার ও ১৮৪ ভরি রুপা বিক্রি করে ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা থেকে পাওয়া গিয়েছিল ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৫১ টাকা।
এর পর থেকে ১৮ বার সিন্দুক খুলে পাওয়া মাঝারি আকারের ৬টি প্লাস্টিকের কনটেইনার ভর্তি স্বর্ণ ও রুপার অলংকার এবং ৬টি বিদেশি মুদ্রার খাম সিলগালা করে ট্রেজারিতে রাখা হয়। আজ সকালে এগুলো খোলা হয়। সবশেষ গত ২৭ জুন বাবলা মসজিদের ১৩টি দান সিন্দুক খোলা হয়। বর্তমানে পাগলা মসজিদের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে জমা আছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা।
সময়ের আলো/আতা