স্বেচ্ছাসেবকদল নেতার বিরুদ্ধে বাড়ি ও মন্দিরের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বরিশালের উজিরপুরে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে একটি পরিবারের বাড়ি ও মন্দিরসংলগ্ন সম্পত্তি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

2026-10-13T19:28:24+00:00
2026-10-13T19:28:24+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬,
২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
স্বেচ্ছাসেবকদল নেতার বিরুদ্ধে বাড়ি ও মন্দিরের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ
বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৮ পিএম 
মন্দিরসংলগ্ন পাকা ফটকে ‘খান বাড়ি’ লিখে প্লাস্টার। ছবি : সময়ের আলো
বরিশালের উজিরপুরে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে একটি পরিবারের বাড়ি ও মন্দিরসংলগ্ন সম্পত্তি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী বরুণ মিত্র উজিরপুরের সার্বজনীন কেন্দ্রীয় কীর্তন আঙিনা ও শ্রীগুরু মন্দিরের সভাপতি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বাড়ি ও মন্দিরের জন্য যে জমি দান করেছিলেন, তা দখলের উদ্দেশ্যে নুরুজ্জামান মন্দিরসংলগ্ন পাকা ফটকে ‘খান বাড়ি’ লিখে প্লাস্টার করে দেন।

বরুণ মিত্র জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিএনপি নেতা এবং থানা পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তিনি কোনো প্রতিকার পাননি। আগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেও কোনো ফল না পেয়ে গত রোববার (১২ অক্টোবর) তিনি উজিরপুর মডেল থানায় পুনরায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার পর সোমবার বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জি হিন্দু পরিবারটির বাড়ি ও মন্দিরের সম্পত্তি দখলমুক্ত করার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু সম্পত্তি তো দখলমুক্ত হয়নি, উল্টো মঙ্গলবার সকালে দখলদাররা আগের প্রধান ফটকের ‘খান বাড়ি’ লেখা সাইনবোর্ডটি খুলে মন্দিরের অফিস কক্ষের ভবনে নতুন করে সাঁটিয়ে দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে বরুণ মিত্র উজিরপুরের সার্বজনীন কেন্দ্রীয় কীর্তন আঙিনা ও শ্রীগুরু মন্দিরসংলগ্ন ৪ শতক জমি কিনে সেখানে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেন। ভবনটির একাংশ ভাড়া দেওয়া হলেও অপর অংশ মন্দিরের ব্যবহারের জন্য দান করা হয়েছিল। প্রতি বছর বার্ষিক কীর্তন উপলক্ষে মন্দির কর্তৃপক্ষ ভবনের ওই অংশ ব্যবহার করে আসছে।

ভুক্তভোগী বরুণ মিত্র জানান, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে পারিবারিক ও ব্যবসায়িক কারণে তিনি বরিশাল শহরে বসবাস শুরু করেন। তার অভিযোগ, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে নুরুজ্জামান খান দলবল নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুট করেন। পরে ভাড়াটিয়াদের মারধর করে বের করে দিয়ে তারা বাড়িটি জবরদখল করেন।

প্রায় ২০ বছর ধরে উজিরপুর সার্বজনীন কেন্দ্রীয় কীর্তন আঙিনা ও শ্রীগুরু মন্দিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা বরুণ মিত্র আরও জানান, মন্দিরের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও ভক্তদের সুবিধার জন্যই তিনি ভবনের একটি অংশ ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ঘটনার পরপরই থানায় জিডি করা হলেও পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের জানিয়েও তিনি কোনো প্রতিকার পাননি, বরং উল্টো অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে লিখিত আবেদন করেও কোনো ফল পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, জমির দলিল, বিএস পর্চা এবং হালনাগাদ খাজনার সব বৈধ কাগজপত্র তার নিজের নামেই থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের এমন নিষ্ক্রিয়তা তাকে হতাশ করেছে।

স্থানীয় কলেজ অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান জানান, ওই বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির প্রকৃত ও বৈধ ক্রেতা বরুণ মিত্র। একই খতিয়ানের ৮২ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে ১২টি পরিবার ভোগদখল করে আসছে। ৫ আগস্টের অস্থিরতার সুযোগ নিয়েই নুরুজ্জামান খান বাড়িটি দখল করেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

মিজানুর রহমানের মতে, জবরদখলের পরও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নুরুজ্জামান খানের এমন কার্যকলাপে স্থানীয় সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

উজিরপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান টুলু বলেন, বরুণ মিত্রের বাড়িটি সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে দখল করা হয়েছে। দলের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালালে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, আর কিছু নেতার এমন কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেওয়াও অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি আরও জানান, বাড়ি ও মন্দিরের জমি দখলের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে এবং তিনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। রোকনুজ্জামান টুলুর অভিযোগ, নুরুজ্জামান খান এলাকার একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যু। এর আগে তিনি উজিরপুর মহিলা কলেজের জমিও দখলের চেষ্টা করেছিলেন এবং এখন মন্দির প্রাঙ্গণে ‘খান বাড়ি’ নাম লিখে রেখেছেন। তিনি দ্রুত প্রকৃত মালিকদের সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

বাড়ি ও মন্দিরের সম্পত্তি দখলের এই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নুরুজ্জামান খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, তার জানামতে বাড়িটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দখল হয়েছে। যেহেতু জমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন, তাই পুলিশের আইনি এখতিয়ার এখানে সীমিত। নতুন অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হলেও সেখানে অভিযোগকারীকে পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী সুজা বলেন, বরুণ মিত্র অনেক আগেই বাড়ি দখলের অভিযোগ করেছিলেন। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় সেটি দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/আতা
  বিষয়:   স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা  বাড়ি  মন্দির  সম্পত্তি  দখল  অভিযোগ  সময়ের আলো  মন্দির দখল 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: