দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক খাইরুল বাশারের নেতৃত্বে অভিযান শুরু করেন জেলা দুদক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে বিশেষ করে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র আবেদন ফি বোর্ডের সংশ্লিষ্ট হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়গুলো অনুসন্ধান করতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সহকারী পরিচালক খাইরুল বাসার জানান, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিশেষ করে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ট্রান্সফার সার্টিফিকেটের আবেদন ফি বোর্ডের সংশ্লিষ্ট হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়েছি।
তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ফরমে ট্রান্সফার সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং যে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে চায়, সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের সুপারিশসহ আবেদনটি দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে হবে। এরপর ‘সোনালী সেবা’র মাধ্যমে এক হাজার টাকা ফি জমা দেওয়ার পর বোর্ড ট্রান্সফার সার্টিফিকেটের অনুমতি দেবে। সেই অনুমতির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সার্টিফিকেট ইস্যু করবে।
কিন্তু এ ক্ষেত্রে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত না করেই ট্রান্সফার হয়ে যায়। ফলে ২০২৬ সালের অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের তথ্য আগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামেই রয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং একসঙ্গে প্রায় চার হাজার আবেদন জমা পড়ে।
খাইরুল বাসার আরও বলেন, এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা বোর্ড ট্রান্সফার সার্টিফিকেট ইস্যুর নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে সিদ্ধান্ত নেয়। এ ক্ষেত্রে ‘সোনালী সেবা’র মাধ্যমে এক হাজার টাকা ফি জমা না নিয়ে বোর্ডের রেজুলেশন ও আলোচনার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের তথ্য আগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এবং রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর বাইরে অর্থ আত্মসাৎ বা অন্য কোনো অনিয়মের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে কমিশনে দাখিল করা হবে।
অভিযানে দুদকের সহকারী পরিচালক ইমরান হোসেন ও উপসহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/আতা