বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের টাকার ভাগাভাগি ও শ্রমিক ইউনিয়নের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের কোপে ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১ রাউন্ড গুলি এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী ‘কানা আজিম’সহ চারজনকে আটক করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘাতের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ মেহেদী (৩৫) এবং শহিদ (৪৫)। তারা বর্তমানে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, বাসস্ট্যান্ড শ্রমিক ইউনিয়নের দখল ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। মঙ্গলবার রাতে শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি আবুল কাশেম সেলিম ভুঁইয়ার ছোট ভাই চিহ্নিত সন্ত্রাসী আজিম ভুঁইয়ার (কানা আজিম) নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী তরুণ ইউনিয়ন কার্যালয়ে প্রবেশ করে। সেখানে কোষাধ্যক্ষ মেহেদী ও শহিদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
হামলার পর ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে অস্ত্রধারীরা শহরে মহড়া দিলে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১টি পিস্তল ও ১ রাউন্ড গুলিসহ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কাশেম সেলিম ভুঁইয়া বাগেরহাট প্রেসক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি দাবি করেন, তার ভাই আজিম ভূঁইয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতকারীরা অস্ত্র নিয়ে অফিসে প্রবেশ করেছিল।
অন্যদিকে, ইউনিয়নের সহ-সভাপতি খান মোকলেসের নেতৃত্বে অন্য পক্ষটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে একই রাতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলন শেষে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আজিম ভূঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শ্রমিক ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরেই এ সংঘাত। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী কানা আজিমসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কানা আজিম ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ‘আল আমিন’ হোটেলের কয়েকটি কক্ষ দখল করে চাঁদাবাজি, অপহরণ, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিল। এর আগেও ককটেলসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন আজিম। সাম্প্রতিক সময়ে জামিনে বেরিয়ে তিনি আবারও বাস টার্মিনাল এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেন।
সময়ের আলো/জোই