বাংলা কিউআর ঝামেলাহীন এক নিরাপদ লেনদেন : জাকির আনাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

এনসিসি ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকির আনাম বলেছেন, আমি বাংলা কিউআর চালুকে বাংলাদেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আধুনিকায়নের একটি

2026-10-14T14:39:18+00:00
2026-10-14T14:42:40+00:00
 
  বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬,
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
অর্থনীতি
সাক্ষাৎকার‌
বাংলা কিউআর ঝামেলাহীন এক নিরাপদ লেনদেন : জাকির আনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৯ পিএম  আপডেট: ১৪.১০.২০২৬ ২:৪২ পিএম
মো. জাকির আনাম। ছবি : সংগৃহীত
এনসিসি ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকির আনাম বলেছেন, আমি বাংলা কিউআর চালুকে বাংলাদেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখি। বিশেষ করে বাংলা কিউআর দেশে ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ার পথে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। গ্রাহকরা মোবাইল দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজেই মূল্য পরিশোধ করতে পারেন। আর ব্যবসায়ীরা নগদ টাকা সামলানোর ঝামেলা ছাড়াই নিরাপদ ও স্বচ্ছভাবে লেনদেন গ্রহণ করতে পারেন।

বাংলা কিউআরের বড় সুবিধা হলো এর আন্তঃসংযোগ (ইন্টারঅপারেবিলিটি)। একটিমাত্র কিউআর কোডেই বিভিন্ন ব্যাংক ও পেমেন্ট সেবাদাতার গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করা যায়। ফলে ছোট দোকান থেকে বড় প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সবখানে ডিজিটাল লেনদেন ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। আমি মনে করি, সঠিক বাস্তবায়ন, গ্রাহকদের সচেতনতা এবং মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলা কিউআর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ক্যাশলেস অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলা কিউআরের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন সহজ ও ঝামেলাহীন হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলা কিউআরের সঠিক ও ব্যাপক ব্যবহার আর্থিক লেনদেনকে আরও সহজ, দ্রুত ও সুবিধাজনক করে তুলতে পারে। প্রচলিত নগদ লেনদেনে খুচরা টাকার সমস্যা, নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি এবং হিসাব সংরক্ষণের কিছু জটিলতা থাকে। বাংলা কিউআরের মাধ্যমে গ্রাহক তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা অংশগ্রহণকারী পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করে সহজেই লেনদেন সম্পন্ন করতে পারেন।

তবে পুরো সুবিধা পেতে হলে নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি, দ্রুত লেনদেন নিশ্চিতকরণ, সহজ ব্যবহারপদ্ধতি এবং কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকা দরকার। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি পেমেন্ট অভিজ্ঞতা, যেখানে গ্রাহককে প্রযুক্তির জটিলতা নিয়ে  ভাবতে হবে না এবং তিনি নিশ্চিন্তে নিরাপদে লেনদেন করতে পারবেন। লেনদেনের খরচ নির্ভর করে পেমেন্ট ব্যবস্থার নিয়ম, প্রযোজ্য চার্জ ও সেবাদাতার নীতিমালার ওপর। তাই বাংলা কিউআর মানেই সবার জন্য বাড়তি খরচ, এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য প্রযোজ্য চার্জের স্পষ্ট তথ্য জানানো জরুরি। 

অন্যদিকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে হলে সহজ ব্যবহারপদ্ধতি, বাংলা ভাষায় নির্দেশনা, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং ব্যাপক সচেতনতা কার্যক্রম প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নারী উদ্যোক্তা, বয়স্ক গ্রাহক এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে হবে। প্রযুক্তি যত সহজ হবে এবং মানুষ যতবেশি আস্থা পাবে, এর গ্রহণযোগ্যতাও তত বাড়বে।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে বাংলা কিউআরে আর্থিক লেনদেন গ্রাহককে কতটা স্বস্তি দেবে— এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে বাংলা কিউআর গ্রাহকদের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনে উল্লেখযোগ্য স্বাচ্ছন্দ্য দিতে পারে। কেনাকাটা, রেস্তোরাঁয় বিল পরিশোধ কিংবা বিভিন্ন সেবার মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে নগদ অর্থ বহন না করেই পেমেন্ট করার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড থাকায় গ্রাহক তার ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ ও পর্যালোচনা করতে পারেন।

তবে গ্রাহকের স্বস্তি শুধু দ্রুত পেমেন্টের ওপর নির্ভর করে না; নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা এবং লেনদেনের স্বচ্ছতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে প্রতারণা প্রতিরোধ, লেনদেনের তাৎক্ষণিক নিশ্চিতকরণ এবং অভিযোগের দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

আমার মতে, একটি নিরাপদ ও কার্যকর বাংলা কিউআর ব্যবস্থা গ্রাহকের সময় সাশ্রয় করার পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্টের প্রতি আস্থা বাড়াবে। এর ফলে নগদনির্ভরতা কমিয়ে একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলা কিউআরকে আরও জনপ্রিয় করতে ও সবার কাছে পৌঁছাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এখনও পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে মো. জাকির আনাম বলেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত দিকনির্দেশনা ও পেমেন্ট ব্যবস্থার মানসম্মত কাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা কিউআর চালুর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন ব্যাংক ও পেমেন্ট সেবাদাতার মধ্যে আন্তঃসংযোগ তৈরি করা, যাতে একটি অভিন্ন কাঠামোর মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ ও সম্পন্ন করা যায়।

এই ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নে অভিন্ন প্রযুক্তিগত মান, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃসংযোগ, নিরাপদ লেনদেন, গ্রাহক সুরক্ষা এবং কার্যকর তদারকি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়াতে মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।

আমি মনে করি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত উদ্যোগের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংক, এমএফএস প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য পেমেন্ট সেবাদাতাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে এই সেবা পৌঁছে দিতে সহজ অনবোর্ডিং, প্রশিক্ষণ এবং নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। এসব উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়নই বাংলা কিউআরকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে সহায়তা করবে।

এনসিসি ব্যাংক কর্তৃক বাংলা কিউআর বাস্তবায়নে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে মো. জাকির আনাম বলেন, এনসিসি ব্যাংক পিএলসি ডিজিটাল পেমেন্টের প্রসার এবং বাংলা কিউআর ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে আমরা ইতিমধ্যে একটি বাংলা কিউআর ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিট গঠন করেছি। এর মাধ্যমে বাংলা কিউআর বাস্তবায়ন, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ও সেবা সম্প্রসারণের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিতভাবে পরিচালনা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আমাদের বিদ্যমান ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ‘এনসিসি অলওয়েজ’-এর কিউআর সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলা কিউআর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরভাবে সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছি। একই সঙ্গে গ্রাহকের জন্য সহজ ব্যবহারপদ্ধতি, নিরাপদ লেনদেন এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাংলা কিউআর গ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির পাশাপাশি মার্চেন্ট অ্যাকুইজিশন, সচেতনতা এবং কার্যকর পরিচালনব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

এই পদ্ধতি ব্যাংক ও আর্থিক খাতকে আরও শৃঙ্খলিত করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলা কিউআরসহ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিস্তার ব্যাংক ও আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে। ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে অর্থের আদান-প্রদানের রেকর্ড তৈরি হয়, যা হিসাব সংরক্ষণ, লেনদেন পর্যবেক্ষণ ও আর্থিক কার্যক্রম বিশ্লেষণে সহায়ক।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নিয়মিত ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস তাদের ব্যবসার আর্থিক কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও যথাযথ ঋণ মূল্যায়নের সঙ্গে এসব রেকর্ড বিবেচনা করে ব্যাংকগুলো ভবিষ্যতে উপযুক্ত আর্থিক সেবা, যেমন ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ও মার্চেন্ট ফাইন্যান্সিংয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু ডিজিটাল পেমেন্ট যথেষ্ট নয়। কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, যথাযথ অডিট, তথ্যের গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধানের পরিপালনও নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয় সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ডিজিটাল পেমেন্ট আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলা কিউআরের সফলতা সম্পর্কে মো. জাকির আনাম বলেন, আমি বাংলা কিউআরের সফলতা এমন একটি পর্যায়ে দেখতে চাই, যেখানে এটি বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের স্বাভাবিক ও নির্ভরযোগ্য অংশ হয়ে উঠবে। একজন গ্রাহক ছোট দোকান, মুদি বাজার, রেস্তোরাঁ কিংবা বিভিন্ন সেবাকেন্দ্রে গিয়ে সহজেই বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন। একইভাবে একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীও বড় কোনো প্রযুক্তিগত অবকাঠামো স্থাপন না করেই ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন।

আমার প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে বাংলা কিউআর এমন একটি আন্তঃসংযুক্ত পেমেন্ট ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে বিভিন্ন অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও পেমেন্ট সেবাদাতার মধ্যে কার্যকর সংযোগ থাকবে এবং গ্রাহক ও মার্চেন্ট উভয়েই সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ সেবা পাবেন।

সর্বোপরি আমার কাছে বাংলা কিউআরের প্রকৃত সফলতা শুধু লেনদেনের সংখ্যা বা আর্থিক পরিমাণ বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়। এর সফলতা হবে তখনই, যখন এটি নগদনির্ভরতা কমাতে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে, লেনদেনের স্বচ্ছতা উন্নত করতে এবং মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক জীবনকে আরও সহজ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এনসিসি ব্যাংক এই লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিকাশে দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চায়।
  বিষয়:   বাংলা কিউআর 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: