পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় জমি বেদখলের দীর্ঘ দেড় যুগ পর আদালতের নির্দেশে নিজেদের পৈতৃক জমির দখল বুঝে পেয়েছেন প্রকৃত মালিকরা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের মাঝগ্রাম এলাকায় ঢাকঢোল পিটিয়ে এবং লাল নিশান উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫৭ শতক জমির দখল হস্তান্তর করা হয়।
দীর্ঘ ১৮ বছর আইনি লড়াই শেষে মালিকানা ফিরে পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন— মাঝগ্রাম এলাকার আসাদুজ্জামান, আরিফুজ্জামান ও তানজিনা বেগম গং।
আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবনগর ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ী মৌজার ৫৭ শতক জমির মালিকানা নিয়ে আসাদুজ্জামান গংদের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী কলেজপাড়া এলাকার খতিবর রহমান গংদের দীর্ঘকাল ধরে বিরোধ চলছিল। ২০০৮ সালে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালে পঞ্চগড় বিজ্ঞ সিভিল আদালত আসাদুজ্জামান গংদের জমির বৈধ মালিক হিসেবে ডিক্রি প্রদান করেন। বিবাদী পক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। এর ফলে দীর্ঘ ১৮ বছর পর জমির দখল বুঝে নেওয়ার পথ সুগম হয়।
বুধবার দুপুরে পঞ্চগড় সিভিল জজ আদালতের জারিকারক কমল চন্দ্র সেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তায় বিরোধপূর্ণ জমিতে উপস্থিত হন। পরে সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করে লাল নিশান স্থাপনের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকদের দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন পর পৈতৃক জমি ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত আসাদুজ্জামান বলেন, “বাবার মৃত্যুর পর প্রভাবশালীরা আমাদের জমি দখল করে নিয়েছিল। গত ১৮ বছর ধরে আমরা এই জমির জন্য আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। আজ আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
এদিকে, উদ্ধার হওয়া জমিতে বর্তমানে আমন ধানের ফসল থাকায় তা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে বর্তমান মালিকরা চাষীদের ফসলের উৎপাদন খরচ ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করার অঙ্গীকার করেছেন। আদালতের প্রতিনিধি দল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আদালতের রায়ের পর উক্ত জমিতে বিবাদী পক্ষের আর কোনো অনুপ্রবেশের সুযোগ নেই।
আদালতের জারিকারক কমল চন্দ্র সেন জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাটোয়ারা মোকদ্দমার ডিক্রি মূলে আমরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে প্রকৃত স্বত্বাধিকারীদের জমির দখল বুঝিয়ে দিয়েছি। আইনের শাসনের মাধ্যমেই এখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সময়ের আলো/আতা