সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে সৃষ্ট অচলাবস্থার জেরে বুধবারও বাংলাদেশ থেকে ২৭টি ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল হয়েছে। এতে নতুন করে ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন ৪ হাজার ৯৮১ জন প্রবাসীকর্মী ও ওমরাহযাত্রী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাতিল হওয়া ২৭টি ফ্লাইটের মধ্যে ১৬টি সরাসরি এবং ১১টি ট্রানজিট ফ্লাইট। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থায় বুধবার পর্যন্ত মোট ৮৯টি ফ্লাইটের সূচি বিপর্যয় ঘটল। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ১৪ হাজার ৬৫৫ যাত্রী। মঙ্গলবার পর্যন্ত বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা ছিল ৬২ এবং আটকে পড়া যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৬৭৪। বুধবার একদিনেই নতুন করে বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় যুক্ত হলো।
বেবিচকের হিসাব অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত বাতিল হওয়া মোট ৮৯টি ফ্লাইটের মধ্যে ৩৯টি সরাসরি এবং ৫০টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস বাংলার ১০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি ও সাউদিয়া এয়ারলাইনসের ৫টি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের সর্বোচ্চ ২২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজ ও ফ্লাই দুবাইয়ের ৬টি করে, সালাম এয়ারের ৪টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইটের যাত্রীরা আটকে পড়েছেন।
শনিবার রাতে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। পরদিন রোববারের হামলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এর পর থেকেই মূলত শুরু হয় এই ভয়াবহ সূচি বিপর্যয়।
নিরাপত্তার স্বার্থে দেশীয় এয়ারলাইনসগুলোও আগাম সতর্কতা হিসেবে ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এবং ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে। যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
টানা কয়েক দিন ধরে ফ্লাইট বাতিলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। অনেকেরই ছুটি ও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানিয়েছেন, আটকে পড়া যেসব প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে তাদের ভিসার মেয়াদ বিনামূল্যে বাড়ানোর বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ