এত অর্থ ব্যয় করেও কেন হুতিদের ঠেকাতে পারছে না সৌদি আরব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

প্রতিরক্ষা খাতে প্রতি বছর বিপুল অর্থ ব্যয় করে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা

2026-10-14T23:45:36+00:00
2026-10-14T23:45:36+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬,
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
এত অর্থ ব্যয় করেও কেন হুতিদের ঠেকাতে পারছে না সৌদি আরব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
প্রতিরক্ষা খাতে প্রতি বছর বিপুল অর্থ ব্যয় করে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনার পরও ইয়েমেনের হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা যাচ্ছে না। গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরেও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রতিরক্ষা খাতে সৌদি আরবের ব্যয় ছিল ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। সামরিক ব্যয়ের দিক থেকে দেশটি বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের একটি। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান, প্যাট্রিয়ট ও থাড আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য থেকেও অত্যাধুনিক অস্ত্র কিনেছে সৌদি আরব। তারপরও দেশটির পুরো ভূখণ্ডকে হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, একই সঙ্গে পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণ— তিন দিক থেকেই বিভিন্ন ধরনের হুমকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে রিয়াদকে।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে পৌঁছালে পূর্ব দিক থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে ইরান। উত্তরে ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আর দক্ষিণে ইয়েমেনের পাহাড়ি এলাকা থেকে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরান-সমর্থিত হুতিরা।

সৌদি আরবের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা নয়; বরং দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তেলক্ষেত্র, বিমানবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও। সম্ভাব্য হামলা দ্রুত শনাক্ত করার পর কোন ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনকে প্রতিহত করা হবে, তা নির্ধারণ করতে হয়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার ব্যবস্থাও নিতে হয়। এসব পদক্ষেপের জন্য সময় পাওয়া যায় খুবই কম।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও সব হামলা ঠেকাতে পারছে না। দেশটির একটি সূত্রের ভাষ্য, বিপুলসংখ্যক স্থাপনা হামলার ঝুঁকিতে থাকায় বিদ্যমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কোথায় মোতায়েন করা হবে, তা নিয়ে কর্তৃপক্ষকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

বহুমুখী হামলায় চাপে সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা

হুতিরা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চাপে ফেলছে। সিএনএনের বিশ্লেষণে এই কৌশলের সঙ্গে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার মিল তুলে ধরা হয়েছে। রাশিয়াও একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে।

ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়ায় সেগুলো শনাক্ত করা ও গতিপথ অনুসরণ করা কঠিন। অন্যদিকে, হুতিদের দাবি, তারা এমন নতুন প্রজন্মের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যেগুলো মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। ফলে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে না। হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে বাইরের সহায়তার বিষয়টিও উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের তথ্য উদ্ধৃত করে সিএনএন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আট বছর আগে ইয়েমেনে ইরানের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ, সামরিক সরঞ্জাম ও ড্রোন শনাক্ত করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। দুই বছর আগে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্যানেল জানায়, বাইরের বিভিন্ন উৎস থেকে হুতিদের কাছে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর, অর্থায়ন এবং যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের মাত্রা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হুতিদের হাতেম-২ ও প্যালেস্টাইন-২ ক্ষেপণাস্ত্রের নকশার সঙ্গে ইরানের তৈরি অস্ত্রের মিল রয়েছে। এগুলো দ্রুতগতিতে চলতে এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়। গত বছর হুতিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এড়িয়ে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কাছে আঘাত হানে। ওই সময় নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমির বার শালোম সিএনএনকে বলেন, প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূর থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের এতটা নির্ভুল হওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

এ ছাড়া ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজেদ আল-নাজিলির দাবি, হুতি রা ইরানের তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষার অস্ত্রেও পরিবর্তন এনেছে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে বিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করছে তারা। গত মাসে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ২৫ মিনিট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে এবং তাপ শনাক্তকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু অনুসরণ করে।

হুতি রা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ নামে পরিচিত জোটের অংশ। হিজবুল্লাহ, হামাস ও ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হুতিরা নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। তেহরানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যেও প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল হুতিরা। তবে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য রয়েছে।

পুরোনো সংঘাত থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে ব্যাপক দুর্ভোগ তৈরি হয়। এরপরও অর্থনৈতিক ও পরিবহন অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত জুলাইয়ে লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলার ঘোষণা দেয় হুতিরা। পরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়। প্রথম দিকে লোহিত সাগরের উপকূলে সৌদি আরামকোর একটি তেল শোধনাগার ও সৌদি বিমানঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দিয়ে সৌদি আরব যে বিমান হামলা চালাচ্ছে, তা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে হুতিরা। একই সঙ্গে সৌদি আরবের কাছ থেকে কয়েকশ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণও দাবি করছে তারা।

এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। গত সোমবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তা দিতে প্রস্তুত তেহরান।

হুতি দের রাজনৈতিক শাখার সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতির দাবি, সৌদি আরব মধ্যস্থতার প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। তবে দুই সপ্তাহ ও এক মাসের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে হুতিরা। আল-বুখাইতি বলেন, এবারের লড়াই আগের মতো নয়। প্রতিদিন সংঘাতের বিস্তার ও ক্ষয়ক্ষতি বাড়বে। আজ যে সমঝোতা সম্ভব, আগামীকাল তা কঠিন, এমনকি অসম্ভবও হয়ে উঠতে পারে।

সতর্কবার্তা বন্ধের পর বিমানবন্দরে হামলা

হুতিদের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেও সৌদি আরব পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছে। গত সপ্তাহে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আগাম সতর্কবার্তা মোবাইল ফোনে পাঠানো বন্ধ করে দেয়। এর পরপরই রিয়াদের বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলা হয়।

রিয়াদের কয়েকজন বাসিন্দা সিএনএনকে জানিয়েছেন, পরে আবার সতর্কবার্তা পাঠানো শুরু হয়েছে। তবে সতর্কবার্তা বন্ধ রাখার বিষয়ে সিএনএনের প্রশ্নের জবাব দেয়নি সৌদি সরকার।

সৌদি সরকারের দাবি, সোমবার তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। রিয়াদে বসবাসরত এক প্রবাসী জানান, এ সপ্তাহে তার সন্তানদের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। আগের কয়েক দিন হামলার আগাম সতর্কবার্তা না আসায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। পাশাপাশি বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির পর হুতি দের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো সৌদি আরবের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, বিমান হামলা জোরদার করলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি বাড়বে। এতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দেশটিকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও পর্যটনের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তেলশিল্পের বাইরেও বাড়ছে নিরাপত্তাঝুঁকি

সৌদি আরবের নিরাপত্তাঝুঁকি এখন আর শুধু তেলশিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তথ্যকেন্দ্র, পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনা ও বিমানবন্দর দেশটির প্রযুক্তি খাত, পানির সরবরাহ এবং পর্যটন অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থাপনায় হামলা হলে অর্থনীতি ও জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।

চলতি মাসের শেষ দিকে রিয়াদে একটি বড় বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজনের কথা রয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার কথা। তবে এ সপ্তাহে রিয়াদে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পেট্রোলিয়াম কংগ্রেসে বড় কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ সীমিত ছিল।

স্থল অভিযানেও সহজ হবে না হুতি দের পরাজিত করা

সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে স্থল অভিযান চালিয়ে হুতি দের পরাজিত করা কঠিন হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করায় ওই ভূখণ্ড সম্পর্কে তাদের ভালো ধারণা রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতের কারণে তারা যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছে। গত এক মাসে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।

যুদ্ধবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের সশস্ত্র সদস্যের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখ পর্যন্ত হতে পারে। তারা ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকেন্দ্র তাইজ ঘিরে ফেলেছে।

গত বছর হুতিদের বিরুদ্ধে সাত সপ্তাহের বিমান অভিযানে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজে হামলা না চালানোর বিষয়ে সমঝোতা হলেও ইয়েমেনে হুতি দের অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকে। এ সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক রিপার ড্রোনও ভূপাতিত করে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় হুতিদের কয়েকজন নেতা, কমান্ডার ও প্রযুক্তিবিদ নিহত হলেও তাদের নেতৃত্বকে নির্মূল করা সম্ভব হয়নি।

সব মিলিয়ে, বিপুল সামরিক ব্যয় ও অত্যাধুনিক অস্ত্রভান্ডার থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরবের জন্য হুতি দের হামলা পুরোপুরি ঠেকানো কঠিন হয়ে উঠেছে। একাধিক দিক থেকে আসা হুমকি, বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ, হুতি দের পরিবর্তনশীল হামলাকৌশল এবং দীর্ঘ সংঘাতের অভিজ্ঞতা— সব মিলিয়ে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে সামরিক পাল্টা পদক্ষেপ ও আলোচনার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও সৌদি আরবের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   হুতি  সৌদি আরব 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: