এলপি গ্যাসে লুটপাট

এসএম আলমগীর

জাতীয়

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি নিয়ে সারা দেশে চরম নৈরাজ্য চলছে। সরকার কয়েক দফা দাম বাড়ানোর পর ১২ কেজি সিলিন্ডারের

2026-10-15T00:54:01+00:00
2026-10-15T00:54:01+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬,
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
এলপি গ্যাসে লুটপাট
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৪ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি নিয়ে সারা দেশে চরম নৈরাজ্য চলছে। সরকার কয়েক দফা দাম বাড়ানোর পর ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও সে দাম আছে কাগজে-কলমে। বাজারে ২৫০০ থেকে ২৬০০ টাকার নিচে মিলছে না সিলিন্ডার। ফলে প্রতি সিলিন্ডার এলপিজিতে ভোক্তার পকেট থেকে লুটে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি ৬৬৩ টাকা। 

আবার অনেক এলাকায় সিলিন্ডার আছে কিন্তু মিলছে না গ্যাস। এক মাসে এলপিজির বিক্রি ২০ হাজার টন কমলেও দাম বেশি হওয়ায় টান পড়েছে রান্নাঘরের চুলায়। একদিকে চড়া দাম, অন্য দিকে টাকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে মিলছে না গ্যাস। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভোক্তারা। 

এদিকে চাহিদার তুলনায় গ্যাস আমদানি করা হলেও সিন্ডিকেট করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। গুটিকয়েক যে প্রতিষ্ঠান এলপিজি আমদানি করছে, তারা এলপিজি ভর্তি জাহাজ সাগরে ভাসিয়ে রেখে সংকট তৈরি করছে বাজারে। সম্প্রতি সরকারের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ৪ কোম্পানির কারসাজির তথ্য উঠে আসে। কোম্পানিগুলো এভাবে অবৈধ মজুদ করে এবং দাম বাড়িয়ে লুটে নিয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। 

অপরদিকে চলমান সংকটের মধ্যেই গত ১২ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীরা আজ বৃহস্পতিবার ও আগামীকাল শুক্রবার দেশজুড়ে সব এলপিজি দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে কমিশন বৃদ্ধি, কোম্পানির ইচ্ছামতো দাম পরিবর্তন বন্ধসহ সাত দফা দাবি জানায় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। ব্যবসায়ীদের এই হুমকির ফলে বাজারে এলপিজির সংকট আরও বেড়ে যায়। 

পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল বুধবার এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠকে বসে সরকারের দুই মন্ত্রী। বৈঠক শেষে গতকাল সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এলপিজি ব্যবসায়ীদের ঘোষিত ধর্মঘট প্রত্যাহার না করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। এই হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতে গতকাল সন্ধ্যায় পূর্বঘোষিত দুদিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন ব্যবসায়ীরা। 

এদিকে ভোক্তা স্বার্থ নিয়ে কাজ করা কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) নেতারা বলছেন, এলপিজি নিয়ে যারা নৈরাজ্য করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। এ বিষয়ে ক্যাবের সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, ‘বিগত কয়েক মাস ধরেই এলপিজির বাজারে ব্যবসায়ীরা ধারাবাহিকভাবে নৈরাজ্য চালিয়ে আসছে; কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। 


পর্যাপ্ত আমদানির পর সংকট : দেশে প্রতি মাসে এলপিজির গড় চাহিদা প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টন। এর বিপরীতে গড়ে মাসে ১ লাখ ৫২ হাজার টনের মতো এলপিজি আমদানি হয়। অর্থাৎ চাহিদার চেয়েও বেশি এলপিজি আমদানি হয় দেশে। তা হলে তো বাজারে কোনো সংকট হওয়ার কথা না। পর্যাপ্ত আমদানির পরও গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। দুই গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে ৪ কোম্পানির এলপিজি নিয়ে কারসাজিরও প্রমাণ মিলেছে। এভাব কৃত্রিম সংকট তৈরি করে গত ৯ মাসে এলপিজির দাম ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

সংকটের শুরু যেভাবে : সবকিছু অনেকটা স্বাভাবিক ছিল সেপ্টেম্বরের গত ২১ তারিখ পর্যন্ত। বিইআরসির নির্ধারিত দাম ছিল ১৫৮৫ টাকা। বাজারে বিক্রি হচ্ছিল ১৬০০-১৭০০ টাকায়। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে হঠাৎ করেই দেশের বিভিন্ন ডিপো থেকে সরবরাহ কমে যায়। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, মোংলার এলপিজি টার্মিনাল থেকে ডিলাররা গ্যাস পাচ্ছিলেন না। কোম্পানিগুলো বলতে শুরু করে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে, জাহাজ ভাড়া বেড়েছে, তাই আমদানি করা যাচ্ছে না। অথচ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। এনবিআরের কাস্টমস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে এলপিজি আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ টন। দেশে মাসে গড় চাহিদা ১ লাখ ৪০ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টন। অর্থাৎ আমদানি চাহিদার চেয়ে বেশি হয়েছে।

তা হলে গ্যাস গেল কোথায় : এ বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ভয়ংকর তথ্য উঠেছে। সরকারের দুটি গোয়েন্দা সংস্থা— এনএসআই এবং ডিজিএফআই সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে পৃথক দুটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সম্প্রতি। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের শীর্ষ ৪টি এলপিজি অপারেটর কোম্পানি যোগসাজশে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। 

তারা দুটি কৌশল নিয়েছে। প্রথমত, আগস্টে আমদানি করা গ্যাস তারা বাজারে না ছেড়ে নিজেদের ট্যাঙ্কার ও বাল্ক স্টেশনে মজুদ করে রেখেছে। দ্বিতীয়ত, ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যে ৬টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার কথা ছিল, সেগুলো তারা বঙ্গোপসাগরে বহির্নোঙরে ভাসিয়ে রেখেছে। জাহাজগুলোতে প্রায় ১৮ হাজার টন এলপিজি ছিল। 

উদ্দেশ্য একটাই— বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের ওপর চাপ তৈরি করা। কারণ প্রতি মাসের ৩ তারিখে বিইআরসি নতুন দাম ঘোষণা করে। সেপ্টেম্বরের শেষে সরবরাহ কম থাকলে অক্টোবরে দাম বাড়াতে বাধ্য হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কৌশল আগেও নেওয়া হয়েছিল। গত এপ্রিলে একইভাবে দাম ১৯৪০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। 

এই প্রতিবেদন পাওয়ার পর সচিবালয়ে জরুরি বৈঠক ডাকেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সেখানে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) এর ১২ জন নেতাকে ডাকা হয়। 

বৈঠকে মন্ত্রীরা এনবিআরের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘আপনারা বলছেন আমদানি করতে পারছেন না, কিন্তু কাস্টমস বলছে পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে। তা হলে গ্যাস কোথায়? লোয়াব নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৌদি আরামকোর দাম বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে, ইনস্যুরেন্স ও ফ্রেইট চার্জ ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

তবে বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, অপারেটররা আগে থেকেই বড় অঙ্কের দাম বাড়ানোর পক্ষে ছিলেন। তাদের দাবি ছিল ১২ কেজিতে ৩০০ টাকা বাড়াতে হবে। শেষ পর্যন্ত ২৫২ টাকা বাড়ানো হয়। 

ভোক্তার ঘাড়ে যত চাপ : এলপিজির দাম কত দ্রুত বাড়ছে, তার একটি হিসাবে চোখ বুলালেই বোঝা যাবে। ২০২১ সালে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ৯৭৫ টাকা। ২০২৩ সালে ১২৩৫ টাকা। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ১২৫৩ টাকা। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ১৪০০ টাকা। এপ্রিলে ১৯৪০ টাকা। সেপ্টেম্বরে কমে ১৫৮৫ টাকা হয়েছিল। এখন আবার ১৮৩৭ টাকা। অর্থাৎ ৯ মাসে বেড়েছে ৬০ শতাংশ। কিন্তু এটি সরকারি দাম। খুচরা বাজারে চিত্র আরও ভয়াবহ। 
সরেজমিন ঢাকার বিভিন্ন এলাকা খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরপুর ১০ নম্বর : ২৩০০-২৪০০ টাকা, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে ২৪০০ টাকা, যাত্রাবাড়ী এলাকায় ২২০০ টাকা, উত্তরা এলাকায় ২৫০০ টাকা, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ : ২৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। 

কেন এই নৈরাজ্য : এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘এলপিজি বাজারে ২৫টি কোম্পানি থাকলেও ৩টি কোম্পানি ৬০ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। তারা কার্টেল করে দাম বাড়ায়। বিইআরসির মনিটরিং দুর্বল। সৌদি আরামকোর দামের সঙ্গে মিলিয়ে দাম ঠিক করা হয়, কিন্তু কোম্পানিগুলো আসলে কত দামে আমদানি করে, তার কোনো অডিট হয় না। তারা ৫০০ ডলারে কিনে ৬৫০ ডলার দেখায়। আরেকটি সমস্যা হচ্ছে— সরকারি কোম্পানি বিপিসির বাজারে অংশ মাত্র ৫ শতাংশ। বিপিসি যদি ২০ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করত, তা হলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো কারসাজি করতে পারত না।

এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন অভিযান চালাচ্ছি এবং নিয়মিত জরিমানা করছি। আশা করছি আমরা দ্রুতই এলপিজির বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারবো।’

এলপিজির বার্ষিক চাহিদা ও আমদানির চিত্র : এলপিজির বার্ষিক চাহিদা ও আমদানির হিসাব নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি তথ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে, তবে সর্বশেষ ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী চিত্রটি এমন— বিপিসি ও এলপি গ্যাস লিমিটেডের হিসাব মতে বর্তমানে দেশে বছরে চাহিদা প্রায় ১৭ লাখ টন। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ রান্নার কাজে, ২০ শতাংশ শিল্প ও গাড়িতে (অটোগ্যাস) ব্যবহার হয়। এলপি গ্যাস লিমিটেড বলছে, ২০২৫ সালের শেষ ৬ মাসে গড়ে মাসে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮১৮ টন আমদানি হয়েছে, যা চাহিদার চেয়ে বেশি। অর্থাৎ আমদানি চাহিদার চেয়ে কম নয়, বরং বেশি হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ ৬ মাসে চাহিদা ছিল ১.২৫ লাখ টন, আমদানি হয়েছে ১.৫২ লাখ টন। 

তা হলে সংকট কেন : সমস্যা আমদানির পরিমাণে নয়, বাজারের নিয়ন্ত্রণে। দেশে ৫৮টি কোম্পানি লাইসেন্স পেলেও সক্রিয়ভাবে আমদানি করে মাত্র ৭-৮টি কোম্পানি। ২৩টি কোম্পানির আমদানি সক্ষমতা আছে, কিন্তু নিয়মিত আমদানি করে ৮টি। ডিসেম্বর ২০২৫-এ মাত্র ৭টি কোম্পানি ১.২১ লাখ টন আমদানি করেছে। সরকারি ৩ কোম্পানি (পদ্মা, মেঘনা, যমুনা) এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি মিলে বছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টন উৎপাদন করতে পারে, যা মোট চাহিদার মাত্র ৩ শতাংশ। অর্থাৎ দেশে বছরে চাহিদা ১৭ লাখ টন, আমদানি ১৪.৫-১৫.৫ লাখ টন। ঘাটতি ১.৫-২ লাখ টন থাকলেও, গত ৬ মাসে আমদানি চাহিদার চেয়ে বেশি হওয়ার পরও কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে মজুদ করে।

 ২৯ অক্টোবর গণশুনানি : এলপিজি ব্যবসায়ীদের ঘোষিত দুদিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর এলজিপির দাম নির্ধারণে আগামী ২৯ অক্টোবর গণশুনানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর গতকাল বুধবার ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   এলপি  গ্যাস  লুটপাট 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: