ভারতের জাতীয় পতাকা ওড়ানো অপরাধ নয়—এমন দাবি করে দিল্লির কনট প্লেসে তিরঙ্গা মার্চের ডাক দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় এ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কর্মসূচির পর নিজেও গ্রেফতার হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দীপকে। তবে গ্রেফতারের আশঙ্কা থাকলেও কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে যাবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে দীপকে বলেন, জাতীয় পতাকা ওড়ানোর কারণে অশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা নিয়ে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দীপকের আহ্বান, দেশপ্রেমিক ও জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তিরা যেন এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। যারা দিল্লিতে আসতে পারবেন না, তাদের নিজ নিজ শহরে তিরঙ্গা মার্চ আয়োজনেরও অনুরোধ জানান তিনি।
দীপকে বলেন, তারা জাতীয় পতাকা ওড়াবেন এবং জানিয়ে দেবেন, পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। জাতীয় পতাকা তাদের গর্বের প্রতীক; সেই গর্ব প্রকাশ করা অপরাধ হতে পারে না। কর্মসূচির পর তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হলেও তিনি পিছিয়ে যাবেন না বলে জানান।
এদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে সমাবেশ আয়োজনের জন্য উদ্যোক্তারা কোনো অনুমতি চাননি। সেখানে সমাবেশ করতে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ কার্যকর থাকায় তিরঙ্গা মার্চের অনুমতি পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার ১৪ জনের একটি দল জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর কার্যালয়ের পেছনের সরু গলি দিয়ে জন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থলে প্রবেশ করে। ওই দলের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন অশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও অজিঙ্কা শিন্ডে। অভিযোগ, তারা তালাবদ্ধ লোহার ফটক টপকে ভেতরে ঢুকে জাতীয় পতাকা ওড়ান এবং স্লোগান দেন। পরে পুলিশ তাদের আটক করে।
এ ঘটনায় রাঙ্কা ও দাসের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। বাকি ১২ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একটি মামলা করা হয়েছে কনট প্লেস থানায়। এতে সরকারি কর্মচারীর জারি করা আদেশ অমান্য, অনধিকার প্রবেশ ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। অপর মামলাটি করা হয়েছে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায়।
বুধবার গ্রেফতার হওয়া রাঙ্কা ও দাসকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে তিহার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ফলে শুক্রবারের তিরঙ্গা মার্চে তাদের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম।
সময়ের আলো/এসএকে