মেসেঞ্জারে সালাম দিলে কি জবাব দেওয়াও ওয়াজিব?

ইসলামের আলো ডেস্ক

ইসলাম

সালাম ইসলামের শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা। এর মাধ্যমে একে অপরের কল্যাণ কামনা করা হয়। সালাম মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও হৃদ্যতা

2026-10-15T16:59:18+00:00
2026-10-15T16:59:18+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬,
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ইসলাম
মেসেঞ্জারে সালাম দিলে কি জবাব দেওয়াও ওয়াজিব?
ইসলামের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৯ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
সালাম ইসলামের শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা। এর মাধ্যমে একে অপরের কল্যাণ কামনা করা হয়। সালাম মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও হৃদ্যতা বাড়ায়, দূর করে বিদ্বেষ ও অহংকার। পারস্পরিক সম্পর্ক সুন্দর করতে এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সালামের গুরুত্ব অপরিসীম।

হাদিসে এসেছে, দুই মুসলমানের সাক্ষাৎ হলে তারা সালাম ও মুসাফাহা করলে আল্লাহ তায়ালা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই তাদের ক্ষমা করে দেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও সালামের চর্চায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি ছোট-বড় সবাইকে আগে সালাম দিতেন। তার এই আমল মুসলমানদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ।

তবে বর্তমানে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ সালাম দিলে তার জবাব দেওয়া কি ওয়াজিব—এ প্রশ্ন অনেকের মনেই আসে।

এ বিষয়ে ইসলািম আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ইসলািম শরিয়তে সালাম দেওয়া সুন্নত, আর সালামের জবাব দেওয়া ওয়াজিব। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘তোমাদের যখন অভিবাদন করা হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম অভিবাদন করবে অথবা তারই অনুরূপ করবে।’ (সুরা নিসা, আয়াত ৮৬)

শায়খ আহমাদুল্লাহর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ আয়াতে অভিবাদন বলতে সালাম বোঝানো হয়েছে। কেউ সালাম দিলে তার চেয়ে উত্তমভাবে অথবা অনুরূপ শব্দে জবাব দিতে হবে। আয়াতে সালাম দেওয়ার নির্দিষ্ট কোনো মাধ্যমের কথা বলা হয়নি। তাই সরাসরি সালাম দেওয়ার মতো লিখিত বার্তায় সালাম দিলেও তার জবাব দেওয়া ওয়াজিব।


অর্থাৎ মেসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন বার্তাভিত্তিক মাধ্যমে কেউ সালাম দিলে তার জবাব দিতে হবে। তবে মাসিক ‘আল কাউসার’-এ প্রকাশিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে সালামের জবাব সালামদাতাকে শুনিয়ে দেওয়া জরুরি নয়। এমনকি তাকে পাল্টা বার্তা পাঠানো বা ফোন করে জানানোও আবশ্যক নয়। মুখে সালামের জবাব দিলেই যথেষ্ট। এ বিষয়ে ‘ফয়জুল কাদির’ (৪/৩১) ও ‘রদ্দুল মুহতারা’ (৬/৪১৫) গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।

সালামের মাধ্যমে পারস্পরিক ভালোবাসা বাড়ানোর গুরুত্বও তুলে ধরেছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা প্রকৃত মুমিন না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর পরস্পরকে ভালো না বাসা পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলব না, যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে? তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালাম প্রচার কর।’

তাই সালাম দেওয়া ও তার জবাব দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সামনাসামনি হোক কিংবা মুঠোফোনের বার্তায়—সালামের মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ও সম্প্রীতি ছড়িয়ে দেওয়ার শিক্ষা দেয় ইসলাম।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   মেসেঞ্জার  সালাম  ওয়াজিব  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: