ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে বিলম্ব, ওয়ার্ডে খাবার সরবরাহে ঘাটতি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। নেতৃত্ব দেন দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন একই কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক পার্থ চন্দ্র পাল ও উপসহকারী পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন সম্রাট।
অভিযানশেষে সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান, অভিযানের সময় হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রায় ৫৬ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হাসপাতালে পরীক্ষা করালেও অধিকাংশ রোগী দ্রুত রিপোর্ট পাওয়ার জন্য বাইরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাচ্ছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।
রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে তিন দিন পর্যন্ত সময় লাগছে। এ বিষয়ে জাকির হোসেন বলেন, হাসপাতালটি ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবলসহ সব কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, আমরা ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছি।
হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে খাবার সরবরাহ না হওয়ার অভিযোগের বিষয়েও খোঁজ নেয় দুদক। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তুলে ধরে জাকির হোসেন জানান, হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও এখনো ১০০ শয্যার খাবার বরাদ্দ রয়েছে। ফলে সব রোগীকে খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর চালু না হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, তাঁদের পর্যবেক্ষণ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী জেনারেটর সচল রয়েছে এবং সেটি চালানো হচ্ছে।
হাসপাতালের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে।
হাসপাতালে দালাল থাকার অভিযোগের বিষয়ে জাকির হোসেন বলেন, সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও সতর্ক করা হয়েছে। তবে কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে দালাল হিসেবে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এদিকে, এর আগে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ওষুধ ও এমএসআর সামগ্রী কেনাকাটায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অভিযানের পর একটি মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জাকির হোসেন জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল করে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে তাঁরা আশাবাদী।
বর্তমান অভিযানে পাওয়া অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চাওয়া হয়েছে জানিয়ে দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, রেকর্ডপত্র পর্যালোচনার পর দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা যাবে। তাঁর প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও সেবাব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না হওয়ায় অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হয়েছে। তাই প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে সরাসরি দুর্নীতি না বলে ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখছেন তাঁরা।
দুদকের অভিযান সম্পর্কে জানতে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমানের সঙ্গে সময়ের আলোর এর পক্ষ থেকে কথা বলতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সময়ের আলো/এনএন