হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে মারুফ আহমেদ (১৬) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে গত তিন মাসে হামের সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
মারুফের বাবা অনন্তপুর এলাকার ফারুক আহমেদ। স্বজনদের দাবি, অন্যান্য অসুস্থতার পাশাপাশি মারুফের শরীরেও হামের রেশ দেখা দিয়েছিল। তবে নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. সাফায়াতুল ইসলাম মণ্ডল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে হামের সন্দেহে প্রায় তিন হাজার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ১ হাজার ১৩০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৫৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। মৃত ৩০ জনের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীও রয়েছেন। তবে মৃতদের সবার হাম শনাক্ত হয়েছিল কিনা, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে, হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে শিশু বিশেষজ্ঞের দুটি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে প্রতিদিন শত শত শিশুর চিকিৎসা দিতে অন্য বিভাগের চিকিৎসকদেরও দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
হাসপাতালের সুপার ডা. মোহাম্মদ আমিনুল হক সরকার জানান, হামের চিকিৎসায় সংকট রয়েছে। প্রতিদিন হাসপাতালপ রোগী আসছে। কেউ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে, আবার কাউকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করতে হচ্ছে। শয্যা ও চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের সেবা দিতে চাপ বাড়ছে।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালের চারতলা ভবনে অতিরিক্ত আরও ২০টি শয্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
সময়ের আলো/জোই