বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

জাতীয়

বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন ও যুদ্ধের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ক্ষুধা

2026-10-15T19:17:40+00:00
2026-10-15T19:17:40+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬,
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৭ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন ও যুদ্ধের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ক্ষুধা কমানোর দীর্ঘদিনের অগ্রগতিও মন্থর হয়ে পড়েছে। ২০০০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৪২ শতাংশের বেশি উন্নতি করলেও ২০১৮ সালের পর উন্নতি হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের (জিএইচআই) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সূচকে ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম। বাংলাদেশের স্কোর ১৯ দশমিক ২, যা ২০১৮ সালে ছিল ২০। সার্বিক মূল্যায়নে বাংলাদেশ এখনো ‘মাঝারি’ ক্ষুধার শ্রেণিতে রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারতের স্কোর ২৪ দশমিক ১, পাকিস্তানের ২৫ দশমিক ৫ এবং আফগানিস্তানের ২৮ দশমিক ৬। তিন দেশই ‘গুরুতর’ ক্ষুধার শ্রেণিতে রয়েছে। সে হিসাবে ক্ষুধা পরিস্থিতিতে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে নেপালের স্কোর ১৪ দশমিক ৫ এবং শ্রীলঙ্কার ১০ দশমিক ২। দেশ দুটি ‘মাঝারি’ ক্ষুধার শ্রেণিতে থাকলেও তাদের স্কোর বাংলাদেশের চেয়ে কম। দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক স্কোর ২৩ দশমিক ৫, যা এ অঞ্চলে ক্ষুধা ও খাদ্যসংকটের গুরুতর চিত্র তুলে ধরে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতির কয়েকটি উদ্বেগজনক দিকও উঠে এসেছে। ২০১৮ সালে শিশুদের কৃশতার হার ছিল ৮ দশমিক ৪ শতাংশ, যা সর্বশেষ মূল্যায়নে বেড়ে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০০০ সালের পর এ হার সর্বোচ্চ। উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের এই অবস্থা শিশুদের অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়।

তবে পুষ্টি ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতির অন্য কয়েকটি সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি রয়েছে। ২০১৮ সালে শিশুদের খর্বাকৃতির হার ছিল ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ, যা কমে ২৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে অপুষ্টিতে থাকা জনসংখ্যার হার ১২ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহারও ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি এই পরিবর্তনকে প্রতিবেদনে ‘এক প্রজন্মের বড় অর্জন’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ২০০০ সালে বাংলাদেশে শিশুদের খর্বাকৃতির হার ছিল ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ। সেখান থেকে তা কমে ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রতিবেদনে এ অগ্রগতির পেছনে বাবা-মায়ের শিক্ষা, বিশেষ করে নারীর শিক্ষার প্রসার, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতি এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার বিস্তারকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায় প্রায় ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগেছে। বিশ্বজুড়ে অপুষ্টিতে থাকা মানুষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এ অঞ্চলের। অতিবৃষ্টি, বন্যায় ফসলের ক্ষতি, চরম খরা ও প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে চারটি সূচকের ভিত্তিতে ক্ষুধার মাত্রা পরিমাপ করা হয়। এগুলো হলো অপুষ্টি, শিশুদের কৃশতা, শিশুদের খর্বাকৃতি এবং পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মৃত্যুহার। সূচকে স্কোর যত কম, ক্ষুধার তীব্রতাও তত কম।

‘খাদ্যনিরাপত্তা ছাড়া কোনো নিরাপত্তা নেই’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে প্রতিবেদনটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়েলথাঙ্গারহিলফে, রুর বিশ্ববিদ্যালয় বোখুমের শান্তি ও সংঘাতবিষয়ক আইন ইনস্টিটিউট এবং সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা হেলভেটাস। 

সময়ের আলো/জেডি 
  বিষয়:   বিশ্ব ক্ষুধা সূচক  ভারত  পাকিস্তান  এগিয়ে  বাংলাদেশ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: