সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে পঞ্চগড় জেলায় ৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ ‘মনিটরিং সেল’ গঠন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে পঞ্চগড় পৌর শহরের শহীদ পুলিশ স্মৃতি স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন দুর্গা মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসব তথ্য জানান পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস।
পরিদর্শনকালে তিনি মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। উৎসবের দিনগুলোতে কোনো ধরনের আতঙ্ক বা সংশয় ছাড়াই পূজা উদ্যাপনের জন্য তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। মতবিনিময় শেষে বিজিবির পক্ষ থেকে মন্দির কমিটিকে শুভেচ্ছা উপহার দেওয়া হয়।
১৮ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস বলেন, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি আমাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ৩৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা টহল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা রুখতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি এবং সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে বিজিবি। বিশেষ মনিটরিং সেলের মাধ্যমে মণ্ডপগুলোর তথ্য আদান-প্রদান ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিজিবি অধিনায়ক দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচার থেকে দূরে থাকতে এবং এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, সকলে মিলেমিশে উৎসব পালন করাই আমাদের সংস্কৃতির শক্তি। সেই সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিজিবি রাজপথে সজাগ রয়েছে।
পরিদর্শনকালে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি পঞ্চগড় শহরের আরও কয়েকটি
মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
সময়ের আলো/এনএন