ঢাকায় দাফনের খরচ : শোকের মুহূর্তেও পরিবারের কাঁধে বাড়তি আর্থিক চাপ

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

প্রিয়জনের মৃত্যু একটি পরিবারের জন্য গভীর শোকের মুহূর্ত। কিন্তু সেই শোক সামলে ওঠার আগেই স্বজনদের সামনে এসে দাঁড়ায় নানা ধরনের

2026-10-15T23:12:21+00:00
2026-10-15T23:12:21+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬,
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
ঢাকায় দাফনের খরচ : শোকের মুহূর্তেও পরিবারের কাঁধে বাড়তি আর্থিক চাপ
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১২ পিএম 
কবরস্থান। সংগৃহীত ছবি
প্রিয়জনের মৃত্যু একটি পরিবারের জন্য গভীর শোকের মুহূর্ত। কিন্তু সেই শোক সামলে ওঠার আগেই স্বজনদের সামনে এসে দাঁড়ায় নানা ধরনের আর্থিক দায়। হাসপাতাল থেকে মরদেহ আনা, কাফনের কাপড় কেনা, কবর খোঁড়া, দাফনের আনুষঙ্গিক উপকরণ সংগ্রহ— প্রতিটি ধাপেই রয়েছে খরচ। এর সঙ্গে অনেক পরিবারকে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের খাবারের ব্যবস্থাও করতে হয়। 

আলাদাভাবে দেখলে এসব খরচের কোনোটি খুব বড় মনে নাও হতে পারে। কিন্তু একের পর এক ব্যয় মেটাতে গিয়ে মোট অঙ্কটি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, যার জন্য অধিকাংশ পরিবার আগে থেকে প্রস্তুত থাকে না।

বিশেষ করে যেসব পরিবারের সঞ্চয় সীমিত, তাদের জন্য প্রিয়জনের শেষবিদায়ের আয়োজন করাও কঠিন হয়ে ওঠে। কারণ মৃত্যুর পরপরই এসব খরচ মেটানোর প্রয়োজন পড়ে। হাতে সময় থাকে না, আবার অর্থের ব্যবস্থা করার জন্য অপেক্ষা করার সুযোগও সীমিত।

শোকের মধ্যেই শুরু হয় খরচের হিসাব

মাহমুদ সজলের বয়স তখন মাত্র ২০ বছর। বাবার মৃত্যুর সময় তিনি কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। প্রিয়জনকে হারানোর শোক সামলানোর আগেই তাকে মরদেহ পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হয়, কিনতে হয় দাফনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

সজল বলেন, আমি তখনো শোক ও হতবিহ্বল অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এর মধ্যেই আমাকে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিস কিনতে হয়েছে। আমার মনে আছে, ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিংয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাবা যে টাকা দিয়েছিলেন, সেখান থেকেই এসব খরচ মিটিয়েছিলাম। আমি এতটাই হতবিহ্বল ছিলাম যে অন্য কারও কাছে টাকা চাওয়ার কথাও মাথায় আসেনি। 

সজলের অভিজ্ঞতা দেখায়, মৃত্যুর পর পরিবারের সামনে শুধু শোক সামলানোর চ্যালেঞ্জই থাকে না; দ্রুত অর্থের ব্যবস্থা করাও হয়ে ওঠে জরুরি কাজ।

মরদেহ পরিবহনেই কয়েক হাজার টাকা 

দাফনের আয়োজনের প্রথম ধাপগুলোর একটি হলো হাসপাতাল থেকে মরদেহ বাড়ি কিংবা কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া। ঢাকায় এ কাজের জন্য ব্যবহৃত হিমায়িত মরদেহবাহী গাড়ির ভাড়াও এখন পরিবারের ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। 

ঢাকাভিত্তিক একজন হিমায়িত মরদেহবাহী গাড়িচালক জানান, স্কয়ার হাসপাতাল থেকে আজিমপুর কবরস্থান পর্যন্ত মরদেহ নিয়ে যেতে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা লাগে। প্রায় ৩০ মিনিটের এই যাত্রায় করোনাভাইরাস মহামারির সময় খরচ হতো প্রায় তিন হাজার টাকা।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং গাড়ি পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভাড়াও বেড়েছে।

দূরত্ব বাড়লে এই খরচ আরও বেশি হয়। ঢাকা থেকে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে টাঙ্গাইলে মরদেহ নিয়ে যেতে লাগে ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর গাড়ি প্রতি অতিরিক্ত এক ঘণ্টা অপেক্ষা করলে দিতে হয় আরও ৫০০ টাকা।

তবে মরদেহ পরিবহনের খরচই শেষ নয়। এরপর রয়েছে গোসল করানো, কাফনের কাপড় কেনা এবং দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহের ব্যয়।

কাফনের কাপড় ও অন্যান্য উপকরণের দাম

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে দাফনের সামগ্রী বিক্রি করেন শাহীন আলম। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পুরুষের জন্য তিন টুকরার একটি সাধারণ কাফনের কাপড়ের দাম এক হাজার ১০০ টাকা। প্রায় পাঁচ বছর আগে একই ধরনের কাপড়ের দাম ছিল প্রায় ৯০০ টাকা। 

নারীদের জন্য পাঁচ টুকরার সাধারণ কাফনের কাপড় কিনতে এখন খরচ হয় এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকা। পাঁচ বছর আগে এর দাম ছিল প্রায় এক হাজার ২০০ টাকা। 

কাপড়ের মান ও ধরন অনুযায়ী দাম আরও বাড়তে পারে। আলম জানান, উন্নত মানের কাফনের কাপড়ের দাম চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

মরদেহ গোসল করানো ও দাফনের জন্য প্রস্তুত করতে আতর, কর্পূর, সুরমা, সাবান ও গোলাপজলের মতো উপকরণও লাগে। এসব সামগ্রী একসঙ্গে কিনলে মানভেদে একটি প্যাকেটের দাম পড়ে প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। পাঁচ বছর আগে একই ধরনের প্যাকেটের দাম ছিল এক হাজার টাকারও কম।

দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি এসব পণ্যের চাহিদাতেও পরিবর্তন এসেছে বলে জানান আলম।

‘হ্যাঁ, কেউ মারা গেলে আমরা লাভ করি। করোনাভাইরাস মহামারির সময় চাহিদা মেটানোর মতো এসব উপকরণ আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ছিল না। এখন সপ্তাহে মাত্র দুই-তিনটি বিক্রি হয়,’ বলেন তিনি।

মরদেহ গোসল করানো ও দাফনের জন্য প্রস্তুত করার খরচ অবশ্য নির্ভর করে কে সেবা দিচ্ছেন এবং পরিবার সরকারি কবরস্থানের সুবিধা ব্যবহার করছে কি না, তার ওপর।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ডিজিটাল কবরস্থান ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির কবরস্থানগুলোতে মরদেহ গোসল করানো, জানাজার নামাজ এবং দাফনের ব্যবস্থা রয়েছে।

দূরে মরদেহ নিতে হলে কফিনের খরচ

কেউ নিজ শহর থেকে দূরে কোনো হাসপাতালে মারা গেলে মরদেহ বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করাও পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করার সামর্থ্য না থাকলে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে মরদেহ পরিবহনের জন্য অনেক পরিবার কাঠের কফিন ব্যবহার করে।

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি কফিন সাধারণত পাঁচ থেকে ছয় ফুট লম্বা হয়। শিশুদের কফিনের দৈর্ঘ্য সাধারণত দুই থেকে তিন ফুট। কাঠের আকার ও মানের ওপর নির্ভর করে একটি কফিনের দাম এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা।

কবরের জন্য কত টাকা লাগে

দাফনের খরচের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কবর খোঁড়া, নিবন্ধন এবং আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনা। ঢাকায় কবরস্থানের অবস্থান ও পরিচালনাকারী সংস্থার ওপর নির্ভর করে এসব খরচে পার্থক্য দেখা যায়।

আজিমপুর কবরস্থানের নিবন্ধক বা মহুরর নুরুল হুদা জানান, সেখানে বর্তমানে কাউকে দাফন করতে নিবন্ধন ফি দিতে হয় এক হাজার টাকা। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ১৮ মাস পর একই কবরে আবার দাফন করা হয়। এ সময়ের মধ্যে আগের মরদেহ পচে মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার কথা।

বর্তমানে আজিমপুর কবরস্থানে সাধারণ কবর সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই। নুরুল হুদার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের পর এই ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ কবরে দাফনের জন্য পরিবারগুলোকে আলাদা করে কবর সংরক্ষণের ফি দিতে হচ্ছে না।

তবে কবর খোঁড়া, বাঁশ, চাটাই ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে আরও এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা খরচ হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সরকারি ওয়েবসাইটে এখনো কবর সংরক্ষণের খরচের তথ্য রয়েছে। তবে সিটি করপোরেশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওয়েবসাইটটি বহু বছর ধরে হালনাগাদ করা হয়নি। এ কারণে ওয়েবসাইটের তথ্যের সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থার অসংগতি দেখা যাচ্ছে।

কবর সংরক্ষণে লাখ থেকে কোটি টাকা

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীন কবরস্থানগুলোতে কবর সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও জায়গার সংকটের কারণে তা সীমিত। কবর সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত মূল্যও কবরস্থানভেদে উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা।

বনানী কবরস্থানের নিবন্ধক হারুন-অর-রশীদ জানান, সেখানে জায়গার অভাবই সবচেয়ে বড় সমস্যা। প্রতিটি কবর ১৫ থেকে ২৫ বছর সংরক্ষণের অনুমতি দেওয়া হলে নতুন করে দাফনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকবে না। এ কারণে কবর সংরক্ষণের মূল্য বেশি রাখা হয়েছে, যাতে মানুষ দীর্ঘমেয়াদে কবর সংরক্ষণে নিরুৎসাহিত হয়।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ছয়টি কবরস্থানেই মৃত্যুর আগে থেকে কবর সংরক্ষণের জন্য অগ্রিম আবেদন করার ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। তবে অনুমোদন ও জায়গা পাওয়া সাপেক্ষে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ১৫ ও ২৫ বছরের জন্য কবর সংরক্ষণের সুযোগ এখনো রয়েছে। প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বনানী কবরস্থানে প্রায় ২০ বর্গফুট আয়তনের একটি কবর ১৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ করতে বর্তমানে প্রায় তিন কোটি টাকা লাগে। ২৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ করতে খরচ হয় সাড়ে চার কোটি টাকা। হারুন-অর-রশীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একই এলাকার এক হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের দামের চেয়েও এই ব্যয় অনেক বেশি। কবর সংরক্ষণের অর্থ কিস্তিতেও পরিশোধ করা যায়।

অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অন্যান্য কবরস্থানে সংরক্ষণের খরচ তুলনামূলক কম।

মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য একটি কবর সংরক্ষণ করতে ২০ লাখ টাকা এবং ২৫ বছরের জন্য ৩০ লাখ টাকা দিতে হয়। তবে কিছু এলাকায় এই খরচ ৯০ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। 

রায়েরবাজার কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য কবর সংরক্ষণের খরচ ১০ লাখ টাকা। ২৫ বছরের জন্য খরচ হয় ১৫ লাখ টাকা।

দাফনের পরও শেষ হয় না ব্যয়ের তালিকা 

দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরও অনেক পরিবারের খরচ চলতে থাকে। জানাজা ও দাফন উপলক্ষে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং উপস্থিত অন্যদের খাবারের ব্যবস্থা করা অনেক পরিবারের প্রচলিত রীতি। 

এ আয়োজনের ব্যয় নির্ভর করে পরিবারের সামর্থ্য, খাবারের ধরন এবং কতজন অতিথি উপস্থিত হচ্ছেন তার ওপর। ফলে এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো খরচ নির্ধারণ করা কঠিন।

তবে ৫০ জনের খাবারের ব্যবস্থা করতেও দশ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হতে পারে।

ঢাকার একজন খাবার সরবরাহকারীর বর্তমান মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ৫০ জনের জন্য ভুনা খিচুড়ি পরিবেশন করতে প্রায় ১৭ হাজার টাকা লাগে। দেশি পোলাওয়ের জন্য খরচ হয় ১৯ হাজার টাকা, গরুর মাংসের তেহারির জন্য ২০ হাজার টাকা এবং কাচ্চি পোলাওজাতীয় খাবারের জন্য ৪৬ হাজার ২৫০ টাকা।

এগুলো একটি খাবার সরবরাহকারীর মূল্যতালিকার ভিত্তিতে করা হিসাব। দাফন-পরবর্তী খাবারের জন্য এগুলোকে নির্ধারিত বা সর্বজনীন ব্যয় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। পরিবার চাইলে নির্দিষ্ট প্যাকেজের পরিবর্তে নিজেদের বাজেট অনুযায়ী খাবারের পদ ও পরিমাণ ঠিক করেও আয়োজন করতে পারে।

দাফনের আয়োজনেও বাণিজ্যিক সেবা

দাফনের বিভিন্ন কাজ একসঙ্গে সামলানো অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হওয়ায় ঢাকায় এ কাজে সহায়তা দেওয়ার জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠান মরদেহ পরিবহন থেকে শুরু করে দাফনের বিভিন্ন ধাপের ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে করে থাকে। 

এমন একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, তাদের সাধারণ সেবার প্যাকেজের মূল্য ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু। এর মধ্যে দাফনের প্রাথমিক কাজ ও মরদেহ পরিবহনের ব্যবস্থা রয়েছে। বেশি দামের প্যাকেজে জানাজাসংক্রান্ত সেবা এবং অতিথিদের খাবারের ব্যবস্থাসহ অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হয়।

এ ধরনের সেবা দাফনের আয়োজনের ধরনেও পরিবর্তন আনছে। আগে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা মিলে যেসব কাজ সম্পন্ন করতেন, এখন অর্থের বিনিময়ে সেগুলোর দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। 

তবে এই সুবিধা গ্রহণের জন্যও পরিবারকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়।

শোকের সময় অর্থের সংস্থানই বড় চ্যালেঞ্জ 

দাফনের খরচের সবকিছু মিলিয়ে পরিবারের ওপর কতটা চাপ পড়বে, তা নির্ভর করে তাদের আর্থিক সামর্থ্য, দাফনের স্থান, পরিবহনের দূরত্ব এবং আয়োজনের ধরনের ওপর। কেউ সাধারণ ব্যবস্থায় দাফন সম্পন্ন করতে পারেন, আবার কারও ক্ষেত্রে পরিবহন, খাবার ও অন্যান্য সেবার ব্যয় অনেক বেশি হতে পারে।

যেসব পরিবারের সঞ্চয় কম, তাদের জন্য সাধারণ আয়োজনের খরচ জোগাড় করাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কারণ মৃত্যুর পরপরই এসব অর্থের প্রয়োজন হয়। পরে পরিশোধ করা যাবে কি না, কিংবা কম দামে অন্য কোথাও ব্যবস্থা করা সম্ভব কি না— এসব ভেবে অপেক্ষা করার সুযোগ অনেক সময় থাকে না।

প্রিয়জনের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অনেক পরিবারকে অর্থের ব্যবস্থা করতে হয়। একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে জরুরি ব্যয় মেটানোর চাপ— দুইয়ের মধ্যে পড়ে পরিবারগুলোকে কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে হয়। 

ঢাকায় দাফনের ব্যয় তাই শুধু কবরের ফি কিংবা মরদেহ পরিবহনের ভাড়া দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবারের সঞ্চয়, আর্থিক সক্ষমতা এবং আকস্মিকভাবে বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করার সামর্থ্য। 

যে সময়ে একটি পরিবারের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানসিক সমর্থন ও স্বজনদের পাশে পাওয়া, সেই সময়েই অর্থের চিন্তা তাদের বাড়তি চাপের মুখে ফেলে। প্রিয়জনকে শেষবিদায় জানানোর মতো আবেগঘন মুহূর্তেও তাই সামনে চলে আসে একটি বাস্তব প্রশ্ন— দাফনের খরচ মেটানোর সামর্থ্য কতটুকু? 


সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   ঢাকা  দাফন  খরচ 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: