ঢাকার কেরানীগঞ্জে গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় চিনে ফেলায় ফলবরু (৮০) নামে এক বৃদ্ধাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সিরাজুল (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আনুমানিক সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কলাতিয়া ইউনিয়নের নতুন চর খাড়াকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ফলবরু নতুন চর খাড়াকান্দি এলাকার মৃত আশরাফ আলীর মেয়ে এবং মৃত লাল মিয়ার স্ত্রী। তিনি মেয়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। অভিযুক্ত সিরাজুল একই এলাকার মৃত মতিনের ছেলে বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস। এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে ওসি বলেন, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
নিহতের ছেলে আব্দুল কুদ্দুসের অভিযোগ, তার মা বোনের বাড়ির পাশে ছোট ভাই ইদ্রিসের উঠানে ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। এ সময় সিরাজুল তার মায়ের গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তার মা সিরাজুলকে চিনে ফেলেন। এ কারণে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে নৃশংসভাবে তার মাকে হত্যা করা হয়।
প্রতিবেশী বহর বাইয়া জানান, চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বৃদ্ধার মরদেহ দেখতে পান। স্থানীয় কয়েকজন তাকে জানান, লাল গেঞ্জি পরা এক ব্যক্তি বৃদ্ধাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন। পরে সিরাজুলকে সন্দেহ হলে তার বাড়িতে গিয়ে রক্তমাখা অবস্থায় দেখতে পান। এরপর স্থানীয়রা তাকে মারধর করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
প্রতিবেশী নাজমা দাবি করেন, তিনি হত্যাকাণ্ডটি প্রত্যক্ষ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির উঠানে ঝাড়ু দেওয়ার সময় গলার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় বাধা দিলে ধারালো ছুরি দিয়ে তার ফুফুর গলা কেটে দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্তের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত সিরাজুলকে গ্রেফতার করে।
সময়ের আলো/আতা