যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার ইউক্রেন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর দক্ষিণে একটি তেল শোধনাগারে বৃহস্পতিবার ভোরে ইউক্রেন বড় ধরনের হামলার চেষ্টা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। রুশ প্রতিরক্ষা

2026-10-15T23:43:13+00:00
2026-10-15T23:43:13+00:00
 
  শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬,
৩১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার ইউক্রেন!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম 
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত ছবি
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর দক্ষিণে একটি তেল শোধনাগারে বৃহস্পতিবার ভোরে ইউক্রেন বড় ধরনের হামলার চেষ্টা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ও কয়েক ডজন ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। তবে ভূপতিত ধ্বংসাবশেষের কারণে রিয়াজানের ওই স্থাপনায় আগুন লেগেছে। 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত এক দিনে ইউক্রেনের কয়েক ডজন শহরে রুশ হামলা হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার রাতে পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছেন বলে মনে করছেন। 

এর আগে ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে সহায়তার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উপাদান প্রত্যাহার করেছে বলে ধারণা তৈরি হয়েছিল। বুধবার লন্ডন সফরে গিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের (এফটি) সঙ্গে কথা বলেন জেলেনস্কি। এ সফরে ডাউনিং স্ট্রিটে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। বৈঠকে বার্নহাম ঘোষণা দেন, কিয়েভে হালকা বহুমুখী ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ ত্বরান্বিত করবে যুক্তরাজ্য।

ইউরোপীয় নেতারাও জেলেনস্কির পাশে দাঁড়িয়েছেন। বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে তাঁদের শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের পরিস্থিতি গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চান জেলেনস্কি

জেলেনস্কি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আরও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করলেই কেবল তিনি রাশিয়ার তেল অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করবেন। কিয়েভের মতে, এসব হামলা রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রের রাজস্বের উৎস বন্ধ করতে অপরিহার্য।

ইরান যুদ্ধে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিতে ভুগছে ইউক্রেন।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জেলেনস্কি বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, হামলা বন্ধ না করলে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ আটকে দেওয়া হবে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করতে রুশ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগাম সতর্কবার্তার ওপর নির্ভর করে। এসব তথ্যের সহায়তায় রুশ হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করে তারা। একই সঙ্গে পুরো যুদ্ধপ্রচেষ্টায় ব্যবহৃত হচ্ছে স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগও।

স্টারলিংক সেবার গতি কমে যাওয়ার পেছনে কারিগরি ত্রুটি থাকতে পারে বলে প্রথমে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ইলন মাস্ক তা অস্বীকার করেছেন বলে মনে হয়েছে। এ জন্য তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

অন্যদিকে, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বন্ধের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জেলেনস্কি বলেন, ‘এটি কারিগরি সমস্যা ছিল না, এটি ছিল ইচ্ছা।’

স্টারশিল্ড সেবা পুনরুদ্ধারের দাবি

বৃহস্পতিবার ভোরে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিবিসিকে জানায়, স্টারলিংকের সামরিক সংস্করণ হিসেবে পরিচিত স্টারশিল্ড সেবা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তবে আগের দিনের নিষেধাজ্ঞার কারণ ও পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে কর্মকর্তারা এখনো কাজ করছেন বলে জানানো হয়।

সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় আরও কঠোর সুরে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে কথা বলেছেন জেলেনস্কি। তাঁর অভিযোগ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মতো স্বৈরাচারী নেতাদের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষপাত রয়েছে।

জেলেনস্কির ভাষ্য, গত সপ্তাহের ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্ক মেরামতের দায়িত্ব তাঁর নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো সম্পর্ক ধ্বংস করিনি।’

ট্রাম্প-জেলেনস্কি সম্পর্কে টানাপোড়েন

ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে আগেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত বছর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ওভাল অফিসে দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, শান্তিচুক্তির পথে প্রধান বাধা জেলেনস্কি।

এরপর থেকে জেলেনস্কি কূটনৈতিকভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চুক্তির বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও শান্তিচুক্তির শর্ত ন্যায্য হতে হবে বলে জোর দিয়ে আসছেন তিনি।

গত সপ্তাহে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাজারে তিন লাখ টন ডিজেল সরবরাহের একটি চুক্তি হয়। এ চুক্তির সমালোচনা করে জেলেনস্কি বলেছেন, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত রাশিয়ার যুদ্ধপ্রচেষ্টায় বিনিয়োগ করছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে ট্রাম্পের সর্বশেষ প্রচেষ্টা ছিল এ চুক্তি। ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক পরিণতি সামলাতে কয়েক মাস ধরে চাপে রয়েছে তার প্রশাসন। ওই যুদ্ধে পেট্রল, বিশেষ করে ডিজেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা মার্কিন জনগণের কাছে ট্রাম্পের অবস্থান ক্ষুণ্ন করেছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জেলেনস্কি বলেন, ‘প্রশ্ন হবে পরের চুক্তি কবে? হয়তো গ্যাস নিয়ে হবে। নিশ্চিতভাবেই গ্যাস নিয়ে হবে।’

রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা অব্যাহত রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে বিঘ্ন ঘটার ঘটনাগুলো কাকতালীয় নয় বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন জেলেনস্কি।

ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগে স্টারলিংকের ভূমিকা

স্টারলিংক স্যাটেলাইটের উচ্চগতির ইন্টারনেট ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ড্রোন পরিচালনা এবং সম্মুখসারির সেনাদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজে ব্যবহার করে।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ইন্টারনেট সংযোগের গতিসীমা আরোপের আগে তাঁদের সতর্ক করা হয়নি।

স্টারলিংকের সহযোগী সেবা স্টারশিল্ড মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের (ডিওডি) সঙ্গে চুক্তির আওতায় সরবরাহ করা হয়। তবে এই সেবায় বিধিনিষেধ আরোপের জন্য নিজেদের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সকে দায়ী করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মাস্ক। তাঁর ইঙ্গিত, সংযোগের গতি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে মার্কিন সরকার।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাস্ক লেখেন, এসব ব্যবস্থার মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ মার্কিন সরকারের হাতে। সংযোগের গতি কিংবা ব্যবহারসংক্রান্ত যেকোনো সীমা নির্ধারণ করে মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো মন্তব্য করেনি। মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি।

সময়ের আলো/ইউএমএইচ 
  বিষয়:   যুক্তরাষ্ট্র  বিশ্বাসঘাতকতা  ইউক্রেন 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: