সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আজ। মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব। এবার দেবীদুর্গার আগমন ঘোটকে (ঘোড়া) এবং গমন নৌকায়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৩৫১টি। অন্যদিকে ঢাকা মহানগরে এবার ২৫৮টি মণ্ডপে পূজা হবে, যা গত বছরের তুলনায় তিনটি কম।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি এসব তথ্য জানায়। প্রতিমার পাশাপাশি ঘটে আয়োজিত পূজাও এ হিসাবের অন্তর্ভুক্ত।
পূজার সূচি অনুযায়ী, আজ মহাষষ্ঠী, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাঅষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী। বিজয়া দশমীর দিন বেলা ৩টায় ঢাকাসহ সারা দেশে শোভাযাত্রা শেষে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন করেছে। সাপ্তাহিক ছুটিসহ ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা বলেন, গত বছর পূজাকেন্দ্রিক যেসব ঘটনায় মামলা হয়েছিল, সেগুলোর অধিকাংশে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা নিরাপদে পূজা উদ্যাপন করতে চান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতি বছরই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও এসব ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পূজার নিরাপত্তায় জোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর : এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সীমান্ত, উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে থাকা প্রায় ১ হাজার ৮০০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কাজ করছে তারা। এ জন্য ১৮টি বিশেষ বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিজিবি সদর দফতরে চালু করা হয়েছে সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। বৃহস্পতিবার রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনে গিয়ে এসব তথ্য জানান বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ৬১৫টি মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ৩ হাজার ৪০০ সদস্য মোতায়েন করবে। প্রতিমা বিসর্জনের সময় নৌপথে দুর্ঘটনা এড়াতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সারা দেশে ২ লাখ ১২ হাজার ১১৮ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপে আটজন এবং সাধারণ মণ্ডপে ছয়জন করে সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় থাকবে স্ট্রাইকিং প্যাট্রোল।
এদিকে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি তদারকি করছেন পুলিশ, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে