মানবসেবায় নবীজির শিক্ষা

তোয়াহা হুসাইন

ইসলাম

মানবতা ও সভ্যতার মহান দিশারি প্রিয় নবীজি (সা.) ছিলেন মানুষের কল্যাণে সদা নিবেদিতপ্রাণ। সর্বদা তিনি মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন। মানুষের

2026-10-16T13:19:01+00:00
2026-10-16T13:19:01+00:00
 
  শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬,
৩১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ইসলাম
মানবসেবায় নবীজির শিক্ষা
তোয়াহা হুসাইন
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৯ পিএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
মানবতা ও সভ্যতার মহান দিশারি প্রিয় নবীজি (সা.) ছিলেন মানুষের কল্যাণে সদা নিবেদিতপ্রাণ। সর্বদা তিনি মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন। মানুষের সেবায় ব্রতী হতে প্রিয় সাহাবিদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। হাতে-কলমে শিখিয়ে গিয়েছেন কিভাবে মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে হয়। উম্মতকে এ মহান কাজে ব্রতী হতে এবং উদ্বুদ্ধ করতে অসংখ্য মুখনিঃসৃত বাণী তিনি রেখে গেছেন। নবুুয়তপ্রাপ্তির আগে থেকেই তিনি জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন। সমাজে প্রসিদ্ধ ছিলেন একজন নিঃস্বার্থ জনসেবক হিসেবে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা আরবের হানাহানি, যুদ্ধ-বিগ্রহ, অরাজকতা নিরসনের লক্ষ্যে আরব যুবকদের নিয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন হিলফুল ফুজুল সংগঠনে। নবুয়তের সুদীর্ঘ তেইশ বছর তিনি মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন। দুস্থ মানতার সেবায় তার গৃহীত পদক্ষেপগুলো অতি ব্যাপক ও বিস্তৃত। 

এতিম ও অসহায়দের সেবা

সমাজে এতিম, অক্ষম ও প্রতিবন্ধীদের রাসুল (সা.) রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিপালনের ব্যবস্থা করেন। বাইতুল মাল থেকে তাদের সহায়তা প্রদানে ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘যদি কেউ সম্পদ রেখে মারা যায় তা হলে সে সম্পদ তার উত্তরাধিকারীর। আর যদি কেউ সহায়হীন এতিম ও বিধবা রেখে মারা যায় তা হলে তার ব্যবস্থাকারী আমি স্বয়ং’ (তিরমিজি : ২/২৯)। অভুক্ত ব্যক্তিকে আহার্যদানে তিনি বেশ তাগিদ দিয়েছেন। আহার্যদানের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘মানুষের কল্যাণ সংশ্লিষ্ট যত কাজ আছে তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম কাজ হচ্ছে দরিদ্র ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করা’। (বুখারি : ১২)

দুস্থ-অসহায়দের চিকিৎসা

অসুস্থ ব্যক্তি যেই হোক না কেন রাসুল (সা.) তার সেবা-শুশ্রƒষায় এগিয়ে যেতেন। ধনী-গরিব, মুসলিম-অমুসলিম, আত্মীয়-অনাত্মীয়ের পার্থক্য তিনি করতেন না। মদিনার এক ইহুদির ছেলের অসুস্থতার সংবাদ পেয়ে রাসুল (সা.) তার বাড়িতে যান তাকে দেখার জন্য (রিয়াদুস সালেহিন : ৯০৪)। আর্তপীড়িত মানুষের সেবার প্রতি রাসুল (সা.) তাগিদ দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা রোগীদের সেবা করো’ (বুখারি : ৫৬৫৯)। সাহাবি বারাআ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) আমাদের সাতটি বিষয়ে বিশেষভাবে আদেশ দিয়েছেন। তার একটি হলো, আমরা যেন রোগীর সেবা শুশ্রƒষা করি। (বুখারি : ৫৬৫০)

অসহায়দের অন্ন-বস্ত্র প্রদান

নবীজি (সা.)-এর নির্দেশনায় তার প্রিয় আনসার সাহাবিরা মুহাজির সাহাবিদের অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান প্রদানের যে নজির স্থাপন করেছেন পৃথিবীর ইতিহাসে তা বিরল। মদিনার আনসার সাহাবিরা মক্কা থেকে আগত মুহাজির সাহাবিদের নিজের ধন সম্পদ এমনকি নিজেদের বাসস্থান পর্যন্ত প্রদান করেন। মসজিদে নববীর একটি স্থানে রাসুলে আকরাম (সা.) পরিজনহারা সহায়-সম্বলহীন মানুষের বসবাস ও পানাহারের জন্য সুফফা নামের একটি ছাউনি স্থাপন করেন। আশ্রয়হীন লোকজন সেখানে আশ্রয় নিত। রাসুল (সা.) নিজ তত্ত্বাবধানে তাদের খাদ্য, বস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনের বন্দোবস্ত করতেন। রাসুল (সা.) তার দস্তরখানায় বসিয়ে তাদের খাওয়াতেন। বাইতুল মাল থেকে যথাসম্ভব তাদের সাহায্য করতেন।

আজ আমাদের আশপাশে কত অভুক্ত, কত অসহায়, কত দরিদ্র, কত দিনমজুর, কত আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা হাহাকার করছে, নীরবে-নিভৃতে রোদন করছে তার খবর আমরা রাখি না। আজ তাদের পাশে দাঁড়ানো, দুবেলা খাবারের ব্যবস্থা করে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মানবতার নবী মানুষের সেবায় আমাদের এই শিক্ষাই দিয়ে গেছেন।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/সময়ের আলো
  বিষয়:   নবীজির শিক্ষা 


Advertisement
Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: