ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে মৃত ব্যক্তি ও একাধিকবার নিবন্ধিত ভোটারদের নাম থাকলেও বহু জীবিত নাগরিকের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ভোটাধিকার হারানোর পাশাপাশি নাগরিকত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন অনেকে। পশ্চিমবঙ্গের সাহিদা ফকির তাঁদেরই একজন।
৩৮ বছর বয়সী সাহিদার জন্ম পশ্চিমবঙ্গে। তার কাছে ভারতীয় জন্মনিবন্ধন সনদ, পারিবারিক জমির নথি এবং পরিবারের ভোটার তালিকায় থাকার প্রমাণ রয়েছে। এরপরও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম পাওয়া যায়নি। পরে তাকে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী অভিযোগে আটক করে পুলিশ। গত জুলাইয়ে তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অথচ তিনি কখনো বাংলাদেশে আসেননি বলে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সীমান্তের একটি গ্রামে আশ্রয় নিয়ে সাহিদা বলেন, ‘আমি যে ভারতের নাগরিক, তা প্রমাণ করার মতো সব নথি আমার আছে। পুলিশকে বাংলাদেশে না পাঠানোর জন্য পায়ে পড়ে অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু তারা আমাকে সীমান্তের এপারে ঠেলে পাঠিয়ে দেয়।’
বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাহিদার নথি যাচাই করে তাকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তার পরিবার তাকে বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে।
কেন বিতর্কে এসআইআর?
ভারতের নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় মৃত ও একাধিকবার নিবন্ধিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি বৈধ ভোটারদেরও বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, এতে মুসলিম, দরিদ্র ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি বলেন, ‘এটি মুসলিমদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য একটি পরিকল্পিত জাতীয় হয়রানিমূলক প্রক্রিয়া।’
তবে বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভোটার বাদ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলটির দাবি, বাদ পড়া ভোটাররা চাইলে পুনরায় নাম নিবন্ধন করতে পারবেন।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। সমালোচকদের মতে, এই প্রক্রিয়া ভোটাধিকার ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সময়ের আলো/এমকে