ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। আঞ্চলিক দুটি সংগঠনের অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত হওয়ায় খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কেও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল থেকে এ সড়ক ব্যবহার করে পর্যটকেরা সাজেকে যেতে শুরু করেন।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার বাঘাইহাট স্টেশনের লাইনম্যান মো. জসিম জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাহিন্দ্রা ও পিকআপসহ অন্তত ১০০টি যানবাহন সাজেকে পৌঁছেছে। এসব যানবাহনে আনুমানিক ৮০০ পর্যটক সেখানে প্রবেশ করেছেন।
পর্যটকদের আগমন শুরু হওয়ায় সাজেকের রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে আবারও ব্যস্ততা বেড়েছে। সাজেকের ‘খোয়াল বুক’ রিসোর্টের ব্যবস্থাপক সমীরণ চাকমা বলেন, শুক্রবার থেকে পর্যটকেরা সাজেকে আসতে শুরু করেছেন। তবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে আগের অনেক বুকিং বাতিল হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে তাদের রিসোর্টে প্রায় ৬০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। পূজার ছুটির পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি ও রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য সুপর্ণ দেববর্মণ জানান, নিষেধাজ্ঞার কারণে আগের বুকিংয়ের বড় একটি অংশ বাতিল হয়েছিল। বর্তমানে রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী দিনগুলোতে পর্যটকের আগমন বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ছয়টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেন সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতা-কর্মীরা। তারা সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। বাঘাইহাটের ১০ নম্বর এলাকা, গঙ্গারাম সেতু ও মাচলঙের ১৪ কিলোসহ কয়েকটি স্থানে সড়ক অবরোধ করা হয়। এতে সাজেকের সঙ্গে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়েন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
অবরোধকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস—সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। একই দাবিতে গত ১১ অক্টোবর অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিলেন সংগঠন দুটির নেতারা। ওই দিন বিকেলে প্রশাসনের আশ্বাসে ৪৮ ঘণ্টার জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। পরে গত বুধবার যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় অবরোধের ঘোষণা দেন তারা।
বিবৃতিতে সংগঠন দুটি অভিযোগ করে, সাজেক এলাকায় জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। ইউপিডিএফের চাপে সংগঠন দুটি অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অবরোধের কারণে গত রোববার পর্যটকবাহী কয়েকটি যানবাহন সাজেকে আটকা পড়েছিল। ওই দিন সন্ধ্যায় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সাজেকে সাময়িকভাবে পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান জানান, সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পর্যটকেরা নিরাপদে সাজেকে প্রবেশ করতে শুরু করেছেন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ