যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস : গ্রেফতার ৭ জনের ৫ জনই সরকারি কর্মচারী

সময়ের আলো ডেস্ক

জাতীয়

যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

2026-10-16T17:33:28+00:00
2026-10-16T17:33:28+00:00
 
  শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬,
৩১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস : গ্রেফতার ৭ জনের ৫ জনই সরকারি কর্মচারী
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৩ পিএম 
এসআরবি-৩-এর আর্টিলারি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন। সংগৃহীত ছবি
যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মচারী। বাকি দুজন তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ জালিয়াতির সঙ্গে একাধিক চক্র জড়িত বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।  

গত ১৪, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর রাজধানীর মতিঝিল, উত্তরখান, মিরপুর, সাভার ও মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। 

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর আর্টিলারি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।  

তিনি জানান, গ্রেফতার সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুই কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর ও এস এম ইমদাদুল ইসলাম এবং অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ। অন্য দুজন হলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর রুবেল ইসলাম। এ ছাড়া চক্রের অন্য দুই সদস্য মো. মফিজুল ইসলাম ও তার সহযোগী মো. হাসানুর রহমান সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

এসআরবির তথ্যমতে, পরীক্ষার দিন ভোর সাড়ে চারটার দিকে নূর মোহাম্মদ প্রশ্নপত্রের একটি অস্পষ্ট ছবি পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ছবিটি জাহাঙ্গীরের কাছে পাঠান তিনি। জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে স্পষ্ট প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর নূর মোহাম্মদ উত্তরপত্র তৈরি করেন। পরে বিতরণকারীদের মাধ্যমে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

সংস্থাটি জানায়, চক্রটি গত তিন থেকে চার বছর ধরে বিভিন্ন সরকারি দফতরের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি করে আসছিল। কোনো দফতরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করত তারা। এরপর হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে চুক্তি করা হতো। এ জন্য নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও ব্যাংকের চেক ব্যবহার করা হতো। 


জামানত হিসেবে পরীক্ষার্থীদের মূল সনদপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেখে দেওয়া হতো। পরীক্ষার হলে উত্তর সরবরাহের জন্য পরীক্ষার্থীদের কানে বা চুলের মধ্যে সূক্ষ্ম ইলেকট্রনিক ডিভাইস লুকিয়ে দেওয়া হতো।

এসআরবি আরও জানায়, তৃতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরির জন্য চক্রটি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরির জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা দাবি করত। 

অভিযানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১৬০টির বেশি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ১৯টি প্রবেশপত্র, ১০টি মূল সনদপত্র, ব্যাংকের চেক, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে। 

প্রশ্নফাঁসের মূল উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য চক্রকে শনাক্ত করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে এসআরবি। 

সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   যুব উন্নয়ন  প্রশ্নফাঁস  গ্রেফতার  সরকারি কর্মচারী 


Advertisement
Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: