যুক্তরাজ্যে কোকেন সেবনের পর অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকার ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির শাসক পরিবার আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈবাহিক সূত্রে যুক্ত মাহরাহ আল নাহিয়ান। এ ঘটনায় শিশুর প্রতি অবহেলার দায়ে আদালতে দোষ স্বীকারের পর তাকে পুনর্বাসন কর্মসূচি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, চলতি বছরের জুন মাসে পশ্চিম লন্ডনের একটি সড়কে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় ৩২ বছর বয়সী মাহরাহকে। তার পাশে অচেতন অবস্থায় ছিলেন আরও এক পুরুষ সঙ্গী।
এ সময় তাদের কাছেই ব্যস্ত সড়কের পাশে জুতা ছাড়া একা একা খেলছিল তিন বছর বয়সী একটি শিশু। শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পথচারীরা এগিয়ে আসেন। তাঁরা শিশুটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুলিশকে খবর দেন।
পরে জরুরি সেবা ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মাহরাহর কাছ থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হলেও কোনো অবৈধ মাদক পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্ঞান ফেরার পর তিনি পুলিশ ও উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলেন, ‘এটি কোনো কসাইখানা নয়, তোমরা এত উদ্বিগ্ন কেন? কেন এত চিন্তা করছ?’
কে এই মাহরাহ আল নাহিয়ান?
আদালতের নথি অনুযায়ী, বিয়ের সূত্রে আবুধাবির শাসক পরিবার আল নাহিয়ানের সঙ্গে যুক্ত হন মাহরাহ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাতটি আমিরাতের মধ্যে আবুধাবি অন্যতম। দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী ও ধনী রাজপরিবার হিসেবে পরিচিত আল নাহিয়ান পরিবার।
নিউইয়র্ক পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারটির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা তারও বেশি। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে মাহরাহ প্রতি মাসে আট হাজার ইউরো বা সমপরিমাণ অর্থ ভাতা পেয়ে থাকেন।
চলছে মাদকাসক্তি থেকে মুক্তির চিকিৎসা
শিশুর প্রতি অবহেলার দায়ে আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন মাহরাহ। তার আইনজীবী স্টিফেন ভুল্লো জানিয়েছেন, নিজের আচরণের জন্য তিনি গভীরভাবে অনুতপ্ত এবং আসক্তি কাটিয়ে সুস্থ হয়ে উঠতে চান।
ঘটনার পর থেকে যুক্তরাজ্যের সারের ওকিংয়ে অবস্থিত দ্য প্রিওরি ক্লিনিকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্তির চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। চলতি মাসে তার তিন মাসের পুনর্বাসন কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা। এরপর ক্লিনিকের কাছাকাছি একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ডে-পেশেন্ট হিসেবে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
আদালত শিশুর সুরক্ষায় অবহেলার দায়ে মাহরাহকে দুই বছরের কমিউনিটি অর্ডার দিয়েছেন। এটি কারাদণ্ডের বিকল্প এক ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। পাশাপাশি তাকে বাধ্যতামূলক পুনর্বাসন কর্মসূচি সম্পন্ন করতে এবং আট হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ