সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে খুলনা জেলা ও নগরে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা গড়ে তোলা হয়েছে।
যে-কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং মণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক স্বস্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ, আনসার, এসআরবি, কোস্টগার্ড, গোয়েন্দা সংস্থা এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকগণ যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অধিক গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোকে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে।
চলতি বছর খুলনা জেলা ও মহানগরীতে মোট ৯৫৬টি স্থানে পূজামণ্ডপ নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু খুলনা নগরীতেই পূজা মণ্ডপ রয়েছে ১১৯টি (যার মধ্যে ১০৬টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং বাকিগুলো গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত)।
সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সংখ্যা ১১ হাজার ২২৪ জন (যার মধ্যে নগরীতে ১ হাজার ২০০ জন পুলিশ এবং জেলায় ৮ হাজার ৮৮৮ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন)। প্রতিটি মণ্ডপে ৬ জন করে আনসার সদস্য থাকছেন। মন্দিরের ভেতরের সদস্যরা লাঠি এবং বাইরের সদস্যরা সশস্ত্র অবস্থায় দায়িত্ব পালন করবেন। এদের পাশাপাশি এসআরবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরাও নিরাপত্তা রক্ষায় মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে এবারের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। শনি ও রোববার সপ্তমী এবং বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস মতে, এবার দেবীর আগমন ঘোড়ায় এবং বিদায় হবে নৌকায়।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, পূজা মণ্ডপগুলোকে চার স্তরের নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। শিশু ও তরুণীদের আনন্দ নির্বিঘ্ন রাখতে পূজা উদযাপন কমিটিকে মহিলা স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, প্রতিটি মণ্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা এবং মণ্ডপের কাছে স্থির ফোর্স ও স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চুরি ও ছিনতাই রোধে মণ্ডপের ভেতর ও বাইরে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিট অফিসাররা সংশ্লিষ্ট থানা ও সার্কেল এসপির সাথে যোগাযোগ রেখে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে একটি কন্ট্রোল রুম।
পুলিশের নিজস্ব অর্থায়নে প্রস্তুত করা প্যানা প্রতিটি মণ্ডপে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে পুলিশ সুপার, সার্কেল এসপি, থানা, এসআরবি, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের জরুরি নম্বর উল্লেখ রয়েছে।
এসআরবি খুলনা-৬ এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ জানান, গত ১৩ অক্টোবর থেকে খুলনা বিভাগের ৮টি জেলায় বিশেষ টহল শুরু হয়েছে। প্রতিদিন ৮ জন সদস্যের ১০টি টিম বিভিন্ন মণ্ডপে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নাশকতার সংবাদ পাওয়া যায়নি।
খুলনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণপদ দাশ ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রশান্ত কুমার কুন্তু জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। জেলা প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট সবার সাথে সমন্বয় করে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপিত হচ্ছে।
শত বছরের ঐতিহ্যমণ্ডিত এই শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
সময়ের আলো/আতা