চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে গভীর রাতে চিহ্নিত এক মাদক কারবারির সঙ্গে পুলিশের ‘গোপন বৈঠকের’ সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, কালীপুর ইউনিয়নের চিহ্নিত মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে গুনাগরি খাসমহল এলাকার একটি খাবারের হোটেলে গভীর রাতে বৈঠকটি হয়।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গুণাগরী আস ছাফা রেস্তোরাঁয় এ বৈঠক হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য জিসানুল ইসলাম মিঠু। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বাঁশখালী থানার এএসআই আলমগীর হোসেনসহ তিন পুলিশ সদস্য সেখানে খাবার খাচ্ছেন এবং মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলম তাদের বিল পরিশোধ করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী থানার এএসআই আলমগীর হোসেন বলেন, জাহাঙ্গীর আলম থানায় আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন, যার তদন্তের দায়িত্বে আমি ছিলাম। তদন্তের কাজে সকালে দেখা করার কথা থাকলেও পরদিন শহরে যাওয়ার কথা থাকায় রাতেই দেখা করি। থানায় নতুন আসায় তিনি যে মাদক কারবারি, তা আমার জানা ছিল না। রাতে দেখা করাটা আমার ভুল হয়েছে। খাবারের বিল আমি দিতে চাইলেও তিনি জোর করে দিয়ে দেন।
কালীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জিসানুল ইসলাম মিঠু বলেন, জাহাঙ্গীর মাদক মামলার আসামি ও মাদকের স্থানীয় ডিলার হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় এলাকাবাসী বেশ কয়েকবার মানববন্ধনও করেছিল। সে পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী বিধায় এলাকার লোকজন তার বাড়ি-ঘরও ভাঙচুর করেছিল।
আস ছাফা রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, খাবার খাওয়া শেষে আমার রেস্তোরাঁ ত্যাগ করার সময় ক্যাশে এসে বিল পরিশোধ করেছেন জাহাঙ্গীর। সাথে ৪ জন পুলিশ সদস্য ছিল।
রামদাশ মুন্সীর হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. দুলাল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল আমার ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকা হলেও ওখানে আমাদের টিমের কেউ ছিল না। তারা সবাই থানার ফোর্স। শুনেছি একটি অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েছিল।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক বলেন, জাহাঙ্গীর আলম চিহ্নিত মাদক কারবারি-এটি সত্য। তবে থানায় আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তার একটি অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের তদন্তের কাজেই পুলিশ তার সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিল।
এএসআই আলমগীর হোসেন ছাড়া বাকি তিন জনের নাম জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান রবিউল হক।
তিনি বলেন, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে ইনচার্জ নেই। তাই তাকে সেখানে দায়িত্ব দিয়েছি। তার নাইট ডিউটি ছিল। জাহাঙ্গীরও দিনে এলাকায় আসতে পারে না। তাই তাকে রাতে ডাকা হয়েছিল।
সময়ের আলো/আতা