চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। উপজেলার ৭৪টি মঠ-মন্দিরে প্রতিমা পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি স্থানে হচ্ছে ঘটপূজা। পৌরশহর থেকে গ্রাম—সবখানে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা স্থাপন, প্যান্ডেল নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজ শেষ হয়েছে। মৃৎশিল্পীদের রং-তুলির শেষ আঁচড়ে দেবী দুর্গা ও অন্যান্য দেব-দেবীর প্রতিমা পেয়েছে পূর্ণাঙ্গ রূপ। বৃহস্পতিবার রাতভর চলে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা। শুক্রবার সকাল থেকেই মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের সমাগম শুরু হয়।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজা উদ্যাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার উপজেলায় ৭৪টি মঠ-মন্দিরে প্রতিমা পূজা এবং পাঁচটি স্থানে ঘটপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করেছেন উপজেলার মৃৎশিল্পীরা। সীতাকুণ্ডের মা প্রতিমা শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী আদিত্য আচার্য জানান, এ বছর তাঁর কারখানায় ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দামের প্রতিমা তৈরি ও বিক্রি হয়েছে। পুরো মৌসুমে তাঁর কারখানা থেকে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকার প্রতিমা বিক্রি হয়েছে।
মৃৎশিল্পী শ্রাবণ পাল বলেন, সমুদ্রের কাদামাটি, বাঁশ ও খড় দিয়ে দীর্ঘ পরিশ্রমে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি করা হয়। সীতাকুণ্ডে তৈরি প্রতিমার সুনাম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে।
উৎসব নির্বিঘ্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। পৌরসদরের বিভিন্ন মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি আয়োজকদের স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করছেন। নিরাপত্তা তদারকিতে মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য রাখা হয়েছে জেনারেটর।
সীতাকুণ্ড পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অমলেন্দু কনক জানান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কারণে এবার দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকাতেও দুটি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় আজান ও নামাজের সময় মণ্ডপগুলোতে বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল বাহাদুর শাস্ত্রী জানান, মণ্ডপ ও আশপাশে মাদক সেবন এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সীতাকুণ্ড পৌরসভা পূজা কমিটির সভাপতি সুজন মল্লিক ও সাধারণ সম্পাদক পাবন কৃষ্ণ দাশ জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় রাজনৈতিক দল এবং সর্বস্তরের মানুষ সহযোগিতা করছেন।
সব মিলিয়ে বর্ণিল আলোকসজ্জা, ঢাকের বাদ্য ও ভক্তদের উপস্থিতিতে সীতাকুণ্ডে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব।
সময়ের আলো/এনএন