মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার অস্ত্রাগারে ১০ রাউন্ড গুলিসহ একটি নাইন এমএম পিস্তল ও একটি ম্যাগজিনের হদিস মিলছে না। ৩ অক্টোবর অস্ত্র ও গোলাবারুদের হিসাব যাচাইয়ের সময় বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ সুপারের কার্যালয়।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ২২ সেপ্টেম্বর হরিরামপুর থানার দায়িত্ব নেন ওসি জে এম তৌফিক আজম। নথিপত্র অনুযায়ী অস্ত্র ও গোলাবারুদের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার কয়েক দিন পর সরেজমিনে গণনা করতে গিয়ে একটি পিস্তল ও একটি ম্যাগজিন পাওয়া যায়নি। ৩ অক্টোবর বিষয়টি ধরা পড়ার পর কয়েক দফা খোঁজাখুঁজি করেও সেগুলোর সন্ধান মেলেনি। পরে ৫ অক্টোবর জিডি করেন ওসি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুন ভিআইপি ডিউটির জন্য পিস্তলটি নিয়ে টাঙ্গাইল যান হরিরামপুর থানার এএসআই আবুল বাশার। সেখানে শ্বশুরের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি অস্ত্রটি সরাসরি থানার অস্ত্রাগারে জমা না দিয়ে এসআই জয়নাল আবেদীনের কাছে হস্তান্তর করেন। পরদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনে পিস্তলটি ব্যবহার করেন জয়নাল। ডিউটি শেষে তিনি অস্ত্রটি কনস্টেবল হারুন অর রশিদের কাছে দিয়ে থানায় জমা দিতে বলেন।
এসআই জয়নাল আবেদীনের দাবি, কনস্টেবল হারুন পিস্তলটি থানায় জমা দিয়েছেন। তবে অস্ত্র ইস্যু ও জমা-সংক্রান্ত রেজিস্ট্রারে জমার তথ্য থাকলেও বর্তমানে সেটি অস্ত্রাগারে পাওয়া যাচ্ছে না। অস্ত্রটি একাধিক পুলিশ সদস্যের হাতবদল হওয়ার পর কীভাবে উধাও হলো, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
থানার অস্ত্রাগারের দায়িত্বে থাকা এসআই এমদাদুল হক জানান, অস্ত্রাগারের দায়িত্ব তার হলেও অস্ত্র ইস্যু ও জমা নেওয়ার কাজটি মূলত কনস্টেবল আবুল কালাম করেন।
এ বিষয়ে কনস্টেবল আবুল কালামের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ওসি জে এম তৌফিক আজম বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় কাগজপত্র অনুযায়ী অস্ত্র ও গোলাবারুদের হিসাব বুঝে নিলেও সরেজমিনে গণনা করা হয়নি। পরে অস্ত্রের হিসাব যাচাই করতে গিয়ে পিস্তল ও ম্যাগজিনের ঘাটতি ধরা পড়ে। খোঁজাখুঁজি করেও সেগুলো পাওয়া যায়নি। এরপর জিডি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
তবে থানার সাবেক ওসি আফজাল হোসাইন দাবি করেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় তিনি অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ সবকিছু আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রের কপি তার কাছে রয়েছে।
মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মহরম আলী বলেন, পিস্তল ও ম্যাগজিন নিখোঁজের ঘটনায় জিডি করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (প্রশাসন) প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
সময়ের আলো/আতা